বিলুপ্তির পথে জাপান? জন্মহার কমছেই, কেন পরিবার গড়তে চাইছেন না তরুণরা?

বিলুপ্তির পথে জাপান? জাপানে জন্মহার টানা ৯ বছর ধরে কমছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা দেখা গেছে। জনসংখ্যাবিদদের আশঙ্কা, এই হার বজায় থাকলে ২৭২০ সালের মধ্যে জাপানে মাত্র একটি শিশু…

March 2, 2025
1 min read

বিলুপ্তির পথে জাপান?

জাপানে জন্মহার টানা ৯ বছর ধরে কমছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা দেখা গেছে। জনসংখ্যাবিদদের আশঙ্কা, এই হার বজায় থাকলে ২৭২০ সালের মধ্যে জাপানে মাত্র একটি শিশু জন্ম নেবে! অর্থাৎ, দেশটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে এগোচ্ছে।

জাপান সরকার সন্তান জন্ম দিতে দম্পতিদের উৎসাহিত করতে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকা) শিশুযত্ন প্রকল্প চালু করেছে। এমনকি সরকারি ডেটিং অ্যাপ পর্যন্ত চালু হয়েছে! তবুও সমস্যার সমাধান হয়নি। কেন?


🔍 জন্মহার কমছে কেন?

১️⃣ বিয়ে কমে যাচ্ছে:
📌 ২০২৪ সালে জাপানে বিয়ের সংখ্যা মাত্র ৪,৯৯,৯৯৯, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ২.২% বৃদ্ধি পেয়েছে।
📌 ২০২০ সালে কোভিডের কারণে বিয়ের হার ১২.৭% কমে যায়, যার প্রভাব এখনও কাটেনি।

২️⃣ চাকরির অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম:
📌 জাপানে ভালো চাকরি ছাড়া পুরুষদের বিয়ের উপযুক্ত মনে করা হয় না।
📌 বর্তমানে চাকরির বাজার দুর্বল, তাই অনেক পুরুষই পরিবার গড়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
📌 জাপানে একটি প্রচলিত শব্দ রয়েছে ‘কারোশি’— যার অর্থ, অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে মৃত্যু!
📌 অনেকেই এত বেশি কাজের চাপে থাকেন যে, সন্তান জন্ম দেওয়া বা লালন-পালনের সময় পান না।

৩️⃣ নারীদের উপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ:
📌 জাপানের বেশির ভাগ চাকরিতেই নারীদের জন্য পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন সুবিধা নেই।
📌 সন্তান জন্ম দিলে নারীদের ক্যারিয়ার থেমে যেতে পারে— এই আশঙ্কায় অনেকেই মা হতে চান না।
📌 কর্মজীবী নারীদের উপর সংসার ও সন্তান পালনের দ্বৈত চাপ থাকে, যা অনেকেই নিতে চান না।


📉 কতটা খারাপ পরিস্থিতি?

📌 ১৮৯৯ সালের পর থেকে জন্মহার এত কম কখনও হয়নি!
📌 ২০২৪ সালে শুধুমাত্র ৭,২০,৯৮৮ শিশু জন্ম নিয়েছে (বিদেশি নাগরিকসহ)।
📌 যেখানে ভারতে ২০২৪ সালে ২.৯৪ কোটি শিশু জন্ম নিয়েছে!
📌 যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তাহলে জাপান পৃথিবীর প্রথম দেশ হতে পারে, যা জন্মহারের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে!


🏛️ জাপান সরকারের উদ্যোগ— কাজ হবে?

✅ বিয়ের হার বাড়াতে ও সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করতে সরকার চালু করেছে:
📌 রাষ্ট্র পরিচালিত ডেটিং অ্যাপ (যাতে যুবক-যুবতীরা সহজে সঙ্গী খুঁজে পান)।
📌 শিশুযত্ন প্রকল্প— ৩.৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বাজেট বরাদ্দ।
📌 সস্তায় আবাসন সুবিধা।
📌 দম্পতিদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বোনাস স্কিম।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এগুলো জন্মহার বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ মূল সমস্যাগুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক— যা শুধুমাত্র অনুদান বা অ্যাপ দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়।


🔮 ভবিষ্যতে কী হবে?

📌 জন্মহার না বাড়লে জাপানের অর্থনীতি ভয়াবহ ধাক্কা খাবে।
📌 বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে, ফলে তরুণদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
📌 দেশের কর্মসংস্থান সংকট আরও তীব্র হবে।
📌 অর্থনৈতিক পতন ঠেকাতে জাপানকে অভিবাসী গ্রহণে আগ্রহী হতে হবে।

জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ। কিন্তু যদি জন্মহার না বাড়ে, তবে এটা আগামী শতাব্দীতে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে— এটা এখন আর অনুমান নয়, বাস্তব আশঙ্কা!

শেষ দিনের শ্যুটিং, আবেগে ভাসল ‘নিম ফুলের মধু’ পরিবার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *