বিরল প্রজাতির মাছ বাঁচাতে ৩০০ বাঁধ ভাঙল চিন!
পরিবেশ রক্ষায় বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল চিন সরকার। দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের ইউনান প্রদেশের রেড রিভার (লাল নদী) অঞ্চলে বিরল প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের স্বার্থে প্রায় ৩০০ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বহু নদী-উপনদীতে এই বাঁধ ভাঙা হয়েছে শুধুমাত্র প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য।
চিনের জলসম্পদ দফতর এবং পরিবেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইউনান প্রদেশের রেড রিভার বেসিন এলাকায় আগে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০০টিরও বেশি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল। এগুলি থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হত। তবে বছর কয়েক ধরেই বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের মধ্যে দাবি উঠছিল, এই বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কারণে নদীর জলপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার জেরে নদীর মধ্যে থাকা বেশ কিছু বিরল প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে চিন সরকার সিদ্ধান্ত নেয় ধাপে ধাপে সমস্ত ছোট ও মাঝারি বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইউনান প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহু বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
রেড রিভার বেসিন অঞ্চলের এক পরিবেশকর্মী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই দাবিই করে এসেছি। এখানে অনেক বিরল মাছের প্রজাতি আছে, যাদের শুধু এই নদীতেই দেখা যায়। বাঁধের কারণে জল আটকে গিয়ে সেগুলি বিলুপ্তির মুখে পড়েছিল। এখন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে পরিবেশের জন্য আশার খবর।”
জানা গিয়েছে, ইউনান প্রদেশের নদীগুলিতে মূলত ‘ড্যুক্সি’ ও ‘ওয়ার্ল্ড রিভার ফিশ’ নামে দুটি বিরল প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এই মাছগুলি জলপ্রবাহ কমলে বা জলদূষণ বাড়লে টিকতে পারে না। ফলে গত এক দশকে এদের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
চিন সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে শুধুমাত্র বাঁধ ভাঙাই নয়, একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের পথও খুঁজে দিয়েছে। কারণ, অনেক জেলে আগে এই জলাধারগুলিতে মাছ ধরেই রোজগার করতেন। এখন সেই জলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু চিনের পরিবেশ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, রেড রিভার প্রবাহিত হয়ে ভিয়েতনামেও যায়। ফলে এর জলপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে দুই দেশেরই জলজ পরিবেশে পরিবর্তন আসবে।
এত দিন ধরে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার মনে করা হত। কিন্তু চিন সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও পরিবেশকে গুরুত্ব না দিয়ে এগনো যাবে না।
চিন সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী নজির সৃষ্টি করেছে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশও কি চিনের দেখানো পথে হাঁটে কিনা।