বিজেপি-র ‘নতুন রঙে’ লাল ছায়া!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি যে আজকাল অন্য দল থেকে আগত নেতাদের উপর আস্থা রাখছে, তা যেন আর গুজব নয়, বাস্তব চিত্র। বিশেষ করে সিপিএম এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো বামপন্থী দল থেকে আসা প্রাক্তন নেতারাই এখন বিজেপির সংগঠনের গুরুদায়িত্বে জায়গা করে নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বদলেছে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ভাষাও—একসময় ‘আদি বনাম নব্য’ বিতর্কে উত্তাল বিজেপি এখন অনেকটাই নিরব এবং গ্রহণশীল। পরপর নির্বাচনী ধাক্কা খেয়ে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে যে নতুন পথ নিচ্ছে রাজ্য বিজেপি, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—তারা আর ‘বহিরাগত’ শব্দটি নিয়ে মাতামাতি করছে না, বরং প্রয়োজনমতো দক্ষ এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বকেই জায়গা দিচ্ছে সামনের সারিতে।
‘আমার বুথ, সবচেয়ে মজবুত’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই রূপান্তরের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রবাল রাহা। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন নেতা, এক সময় দাপুটে নেতা কমল গুহের সচিব ছিলেন, বর্তমানে বিজেপি-তে বুথ শক্তিকরণ কর্মসূচির প্রধান। ২০১৭ সালে বিজেপি-তে যোগ দিলেও, বহুদিন পর্যন্ত নেপথ্যেই থেকেছেন প্রবাল। কিন্তু তার নিরলস কাজ, এবং প্রশ্নহীন দায়িত্ববোধ তাঁকে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের আস্থাভাজন করে তুলেছে। আজ বিজেপি-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক রণকৌশল তাঁর হাতেই।
এই কমিটিতে প্রবালের সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন বাম এবং কংগ্রেস প্রাক্তনী, যেমন শশী অগ্নিহোত্রী ও অনুপম ঘোষ। শশী ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে এসেছেন, সংগঠনের অভিজ্ঞতা তাঁর পুঁজি। অনুপম যদিও কংগ্রেস থেকে আসা, তবু তাঁকেও রাখা হয়েছে এই কমিটিতে, কারণ তাঁর কাজের ধৈর্য এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা নেতৃত্বের নজর কেড়েছে।
শুধু এখানেই শেষ নয়। শিলিগুড়ির প্রাক্তন সিপিএম নেতা শঙ্কর ঘোষ, যিনি পরে বিজেপি-র টিকিটে জিতে বিধায়ক হন, এখন হয়েছেন বিধানসভায় বিজেপি-র মুখ্য সচেতক। উত্তর ২৪ পরগনায় ফরওয়ার্ড ব্লক ঘরনার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কেও সাংগঠনিক আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের ১১ বছরের কাজ তুলে ধরার জন্য গঠিত প্রচার কমিটিতেও রয়েছেন অনুপম, শশী এবং প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা শঙ্কর চক্রবর্তী।
এই ছবি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে বিজেপি নতুন কৌশল নিচ্ছে—সংগঠনকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাতে পরীক্ষিত নেতাদের উপর ভরসা রাখছে, তা তাঁরা যে দল থেকেই আসুন না কেন। রাজ্য বিজেপি দফতরে এখন ‘আদি বনাম নব্য’ বিতর্কে আগ্রহ কম, বরং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে যে নেতৃত্ব দলকে এগিয়ে নিতে পারছে, তাদেরই জায়গা দেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
এককথায়, বঙ্গ বিজেপি-র সংগঠনের ভিত এখন গড়ে উঠছে সেই সব নেতাদের কাঁধে, যাঁদের বাম অতীত একসময় ছিল দলের সমালোচনার কারণ—আজ তারাই দলের ভরসার প্রতীক। এই বদল, নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ পালাবদল।
বাড়ির আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন বদলের পথে করিনা: চুয়াল্লিশে পা দিয়েই নিলেন এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত