বালোচিস্তানে বিদ্রোহের আগুনে দিশেহারা ইসলামাবাদ: সেনার সীমাবদ্ধতা মানলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বালোচিস্তানে বিদ্রোহের আগুনে দিশেহারা ইসলামাবাদ! পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালোচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে এখনও সফল হতে পারেনি ইসলামাবাদ। লাগাতার সামরিক অভিযান, কড়া দমনপীড়ন—কিছুই থামাতে পারছে না অশান্তির আগুন। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার…

February 4, 2026
1 min read

বালোচিস্তানে বিদ্রোহের আগুনে দিশেহারা ইসলামাবাদ!

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালোচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে এখনও সফল হতে পারেনি ইসলামাবাদ। লাগাতার সামরিক অভিযান, কড়া দমনপীড়ন—কিছুই থামাতে পারছে না অশান্তির আগুন। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার প্রকাশ্যে পাক সেনাবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। মঙ্গলবার পাকিস্তানের সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি কার্যত মেনে নিলেন, বালোচিস্তানের মতো বিশাল এলাকায় বিদ্রোহ দমন করা সেনাবাহিনীর পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিফ বলেন, ভৌগোলিক কারণই সবচেয়ে বড় বাধা। তাঁর কথায়, “বালোচিস্তান পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে। এত বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা কোনও জনবহুল শহর সামলানোর থেকেও অনেক বেশি কঠিন।” তিনি জানান, সেখানে সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলছে, কিন্তু এত বিস্তীর্ণ অঞ্চল পাহারা দেওয়া সেনার পক্ষে শারীরিক ও কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত কঠিন।

উল্লেখ্য, আয়তনে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হলেও বালোচিস্তানে জনসংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। পাশাপাশি এটি দেশের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশগুলির একটি। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নহীনতা, বঞ্চনা ও রাজনৈতিক অসন্তোষের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব বালোচ গোষ্ঠীগুলি। সেই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহ।

গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বালোচিস্তানের বিভিন্ন স্কুল, ব্যাঙ্ক এবং সামরিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহেই অন্তত ১২টি জায়গায় হামলা চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সব হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ বিদ্রোহী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। পাশাপাশি এই প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো জঙ্গি সংগঠনও, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন সাধারণ নাগরিকও। এই ঘটনার পর গত শনিবার থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানি সেনা। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই অভিযানে ১৪৫ জন বিদ্রোহীর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। সোমবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১৭৭-এ পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়।

তবে এত বড় অভিযানের পরেও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, পুরো পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সেনাবাহিনীর ‘প্রতিবন্ধকতা’র কথা প্রকাশ্যে এনে ইসলামাবাদ যেন নিজের সীমাবদ্ধতাই স্বীকার করে নিল। বিশাল এলাকা, কঠিন ভৌগোলিক পরিবেশ, স্থানীয় ক্ষোভ এবং একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে বালোচিস্তান এখন পাকিস্তানের কাছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধুই সামরিক শক্তি দিয়ে কি এই বিদ্রোহ থামানো সম্ভব, না কি রাজনৈতিক সমাধানের পথেই শেষ পর্যন্ত হাঁটতে হবে ইসলামাবাদকে?

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *