বাবাকে হারিয়েও হার মানেননি অস্মিতা, রোনাল্ডোর জীবনসংগ্রাম থেকেই কমনওয়েলথে সোনা জয়ের অনুপ্রেরণা

বাবাকে হারিয়েও হার মানেননি অস্মিতা! ভারতীয় জুডোর ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন অস্মিতা দে। কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।…

August 4, 2026
1 min read

বাবাকে হারিয়েও হার মানেননি অস্মিতা!

ভারতীয় জুডোর ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন অস্মিতা দে। কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পিছনে শুধু কঠোর অনুশীলন নয়, রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত শোক, অদম্য মানসিক লড়াই এবং ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জীবন থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা।

২৩ বছর বয়সী অস্মিতার জন্ম ত্রিপুরায় হলেও তাঁর পরিবারের শিকড় উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রেন স্ট্রোকে বাবার মৃত্যু তাঁর জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতির মাঝেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য জুডো থেকেও দূরে সরে গিয়েছিলেন।

ঠিক সেই কঠিন সময়েই তাঁকে নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জীবনকাহিনি।

অস্মিতা জানিয়েছেন, রোনাল্ডোর সংগ্রামের গল্প তিনি নিয়মিত পড়েন ও দেখেন। তাঁর কথায়, “আমি সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। জীবনে তিনি অসংখ্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েও তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়েছেন। তাঁর পুরো যাত্রাপথই আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”

অস্মিতার নিজের জীবনও কম কঠিন ছিল না। দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ায় ছোটবেলা কেটেছে অভাবের মধ্যে। তাঁর বাবা অর্জুন কুমার দে একটি সাইকেল সারাইয়ের দোকানে কাজ করতেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই চার সন্তানের পরিবার চালাতেন তিনি।

জুডোয় আসার আগে অস্মিতা ছিলেন একজন অ্যাথলিট। ৮০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতেন। বেলোনিয়া বিদ্যাপীঠ কোচিং সেন্টারে বীনা দেবনাথের কাছে অ্যাথলেটিক্সের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে মানিক লাল দেবের তত্ত্বাবধানে জুডো শুরু করেন। পরে ভারতের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের (SAI) ভোপাল কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেন এবং সেখান থেকেই টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS)-এ জায়গা করে নেন।

বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জন্য সোনা জেতা অস্মিতার মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। তাঁর এই সাফল্য দেখিয়ে দিল, ব্যক্তিগত জীবনের গভীর আঘাতও লক্ষ্যপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, যদি আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা অটুট থাকে।

ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ জুডো স্বর্ণজয়ী হিসেবে অস্মিতা দে এখন শুধু একজন সফল ক্রীড়াবিদ নন, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে উঠে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণার নাম।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *