বাংলার শিক্ষা পোর্টালে সার্ভার সমস্যা: শিক্ষকদের জন্য বিভ্রান্তি ও অসুবিধা

বাংলার শিক্ষা পোর্টালে সার্ভার সমস্যা বাংলার শিক্ষা পোর্টালে প্রায়ই সার্ভার ডাউন থাকার কারণে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, পরীক্ষার নম্বর পোর্টালে আপলোড করতে না…

December 25, 2024
1 min read

বাংলার শিক্ষা পোর্টালে সার্ভার সমস্যা

বাংলার শিক্ষা পোর্টালে প্রায়ই সার্ভার ডাউন থাকার কারণে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, পরীক্ষার নম্বর পোর্টালে আপলোড করতে না পারায় বহু স্কুলের পড়ুয়াদের হাতে লিখে মার্কশিট দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বহু স্কুলে ২৫ ডিসেম্বর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলেও, ওই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলল না।

শিক্ষকদের মতে, প্রতিবছরই বাংলার শিক্ষা পোর্টালের সার্ভার ডাউন থাকার সমস্যার সম্মুখীন হন তারা। বিশেষ করে যখন পোর্টালে নম্বর আপলোড করার সময় আসে, তখনই এই সমস্যা বেশি হয়। শিক্ষকদের দাবী, পোর্টালের সার্ভার সঠিকভাবে কাজ না করায়, তারা কখনও কখনও রাত জেগে বসে থাকেন এবং সার্ভার ঠিক হওয়ার অপেক্ষা করেন।

এছাড়া, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় সারা বছরে তিনটি পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন হয়ে থাকে। এই তিনটি মূল্যায়নের ফল মিলিয়ে একটি চূড়ান্ত ফল তৈরি করতে হয়, যা শিক্ষকদের বাংলার শিক্ষা পোর্টালে আপলোড করতে হয়। তবে, সার্ভার ডাউন থাকায় বেশিরভাগ স্কুলের শিক্ষকরা ফলাফল আপলোড করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে, স্কুলগুলিকে বাজার থেকে মার্কশিট কিনে, ছাত্রছাত্রীদের হাতে হাতে নম্বর লিখে বিতরণ করতে হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “এবারের সমস্যা যে আমরা বলেছিলাম, তা সত্যি হল। সার্ভারের সমস্যা নিয়ে বার বার শিক্ষা দফতরকে জানানো হলেও, এর সমাধান হল না। প্রতি বছর এই একই সমস্যা চলে আসছে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই কেন এই সমস্যা সমাধান হয়নি, তা প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা দফতরের এক কর্তার বক্তব্য, “যখন সব স্কুল একসঙ্গে সার্ভার খুলে কাজ শুরু করে, তখন সার্ভার একটু ধীরে চলে। তবে সন্ধ্যার পরে সার্ভার স্বাভাবিকভাবে কাজ করে এবং অসুবিধা হয় না। অনেক স্কুল নম্বর আপলোড করে মার্কশিট দিতে পেরেছে।”

তবে, শিক্ষকরা এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “রাত জেগে কাটাতে হয়েছে, কখন সার্ভার ঠিক হবে, সেই অপেক্ষায়। আমাদের স্কুলে হাতে লেখা মার্কশিট দিতে হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দফতর বলছে, একসঙ্গে সবাই মিলে পোর্টাল খুললে পোর্টাল শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমন হয়? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোতেও তো প্রতিদিন অনেক মানুষ একসঙ্গে কাজ করেন, সেখানে এমন সমস্যা তো দেখা যায় না।”

শিক্ষকদের মতে, এটি একটি কার্যকর সমাধান হওয়া উচিত ছিল। পোর্টালের সঠিকভাবে কাজ না করা মানে শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে তারা মার্কশিটে নম্বর লিখতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে পোর্টালে নম্বর আপলোড করাও অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। ফলে, শিক্ষকদের পক্ষে তাদের কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যের শিক্ষা দফতরের কাছে শিক্ষকদের দাবী, দ্রুত সার্ভার সমস্যার সমাধান করা হোক যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তারা মনে করেন, সার্ভারের সমস্যা থেকে মুক্তি না পেলে, শিক্ষার এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কার্যকরী হতে পারবে না।

নতুন বছরে আবারও স্কুলগুলিকে তাদের ছাত্রছাত্রীদের নম্বর আপলোড করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *