বলিউডের ঝলকানি ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার পথে!
একসময় বলিউডে তাঁকে ঘিরে ছিল বড় প্রত্যাশা। প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছিলেন দর্শকদের, প্রশংসা পেয়েছিলেন সমালোচকদের কাছ থেকেও। কিন্তু যখন তাঁর অভিনয়জীবন সাফল্যের দিকে দ্রুত এগোচ্ছিল, তখনই হঠাৎ আলো-আড়াল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন অভিনেত্রী অরুণা শিল্ডস। আজ তিনি আর সিনেমার দুনিয়ায় নেই, বরং বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন।
ভারতীয় বাবা ও ব্রিটিশ মায়ের সন্তান অরুণা শিল্ডসের বেড়ে ওঠা ব্রিটেনেই। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি নাট্যশিক্ষা নেন এবং পরে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। সেই সূত্রেই বলিউডে সুযোগ আসে। ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Prince ছবিতে Vivek Oberoi-এর বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি। ছবির জনপ্রিয় গান এবং অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল এই কারণে যে, বিপজ্জনক স্টান্টের বেশির ভাগই তিনি নিজেই করেছিলেন।
পরে তিনি Mr Singh Mrs Mehta-তে অভিনয় করেন এবং ফরাসি ভাষার চলচ্চিত্র Ao, the Last Hunter-এ কাজ করে আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসা পান। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে প্রাগৈতিহাসিক ভাষা পর্যন্ত শিখতে হয়েছিল বলে জানা যায়।
তবে অভিনয়ের স্বপ্ন যখন বাস্তবের রূপ নিচ্ছিল, তখনই এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন অরুণা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সাফল্যের মাঝেও নিজেকে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজতে গিয়ে তিনি অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্ম-অনুসন্ধানের চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি সাইকোথেরাপিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরে মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত বিকাশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা ও আত্মউন্নয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
বর্তমানে অরুণা ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি একজন হিপনো-সাইকোথেরাপিস্ট এবং মেন্টর হিসেবে কাজ করেন। মানসিক চাপ, অবসাদ, খ্যাতির চাপ কিংবা আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভোগা মানুষদের সঙ্গে কাজ করে তাঁদের মানসিক সুস্থতার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
তবে অরুণার বর্তমান জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিক সম্ভবত তাঁর সাপপ্রেম। পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে তিনি সাপকে শান্তি ও আত্মিক শক্তির প্রতীক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, সাপের উপস্থিতি মানুষকে নিজের অন্তর্দৃষ্টি ও মানসিক ভারসাম্যের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করতে পারে। সেই কারণেই তিনি নিজের পোষ্য সাপদের ‘হিলিং পার্টনার’ বা নিরাময়ের সঙ্গী হিসেবে দেখেন।
সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই সাপকে ঘিরে ছবি ও ভিডিও ভাগ করে নেন অরুণা। যদিও ২০২৩ সালে আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন, ২০১২ সালের পর আর কোনও চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা যায়নি।
আজ বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া থেকে বহু দূরে, নিজের পছন্দের জীবনেই সুখী অরুণা শিল্ডস। খ্যাতি, ক্যামেরা আর লালগালিচা ছেড়ে তিনি খুঁজে নিয়েছেন এক অন্য পরিচয়— মানসিক সুস্থতা, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্ম-অন্বেষণের পথপ্রদর্শক হিসেবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?