বর্ষশেষের ভিড়ের যুদ্ধে কে এগিয়ে
কলকাতায় বর্ষশেষের দিনগুলোতে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন স্থান সবসময়ই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে থাকে। এ বছরও সেই চিরাচরিত চিড়িয়াখানা-ভিক্টোরিয়া, নিউ টাউনের ইকো পার্ক, এবং তার সঙ্গে যোগ হওয়া নতুন আকর্ষণ হরিণালয়—এই তিনটি স্থানের মধ্যে দর্শনার্থীদের আগমনের ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট যেন এখনও চিড়িয়াখানারই হাতে রয়ে গেছে।
শীতের আমেজ, বর্ষশেষের উৎসব, এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উপভোগের জন্য অনেকেই স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। কলকাতার চিরাচরিত চিড়িয়াখানা যেমন বর্ষশেষে এক বিশাল সমাগম ঘটায়, তেমনি গত কয়েক বছর ধরে নিউ টাউনের ইকো-ট্যুরিজ়ম পার্কও তার নিজস্ব এক আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
চিড়িয়াখানার চিরকালীন জনপ্রিয়তা
এবছরেও চিড়িয়াখানায় ভিড়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অধিকার করেছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আলিপুর চিড়িয়াখানায় ৪০,৬৪২ জন দর্শনার্থী এসেছিলেন। এই সংখ্যাটা ইকো পার্ক এবং হরিণালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। চিড়িয়াখানার মধ্যে বিশেষ করে অ্যানাকোন্ডা, সিংহ, বাঘ, মাউস ডিয়ারসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখার জন্য আগত দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্ষশেষের উৎসবে চিড়িয়াখানার বিশেষ আকর্ষণ থাকলেও নিউ টাউনের ইকো পার্কও কম ছিল না। তবে, ইকো পার্কের দর্শনার্থীর সংখ্যা চিড়িয়াখানার তুলনায় কিছুটা কম ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইকো পার্কে ৩১,৬৯৮ জন দর্শনার্থী এসেছিলেন, যা চিড়িয়াখানার সঙ্গে তুলনা করলে কম হলেও, একাধিক বিশ্ব বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলির আদলে তৈরি ইকো পার্কের আর্কিটেকচার এবং সেটিংস অনেক দর্শকের কাছে আকর্ষণীয় ছিল।
হরিণালয়ের আগমন
এবারের বর্ষশেষের উৎসবে নতুন এক আকর্ষণ যোগ হয়েছে নিউ টাউনের হরিণালয়। “মিনি জু” হিসেবে পরিচিত হরিণালয়ে দর্শনার্থীরা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। এতে ৩০,০০০ দর্শনার্থী এসেছিলেন, যা ইকো পার্কের কাছাকাছি এবং ভিক্টোরিয়ার থেকেও বেশি। হরিণালয়, যা মূলত একটি ছোট প্রাণী জঙ্গল, এর মধ্যে নানা ধরনের হরিণ, মৃগ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক জীবজন্তুর উপস্থিতি ছিল।
এমনকি, নতুন হরিণালয়ের সাফল্য এতটাই ছিল যে, এটি ইকো পার্কের কাছে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই হরিণালয়কেই বেশি পছন্দ করেছেন।
ভিক্টোরিয়া ও জাদুঘরের উপস্থিতি
আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান ছিল ভিক্টোরিয়া, যেখানে ২৩,৭৩৮ জন দর্শনার্থী এসেছিলেন। একইভাবে, কলকাতার বিখ্যাত জাদুঘরেও ৯,৭০০ জনের সমাগম ঘটেছিল। তবে, এই সংখ্যা চিড়িয়াখানা বা ইকো পার্কের তুলনায় অনেক কম ছিল।
গতবছরের তুলনায় ভিন্ন পরিস্থিতি
গত বছরের তুলনায় এবছর চিড়িয়াখানার দর্শনার্থী সংখ্যা কিছুটা কমলেও, বড়দিনে চিড়িয়াখানায় ৭০,২২৬ জন দর্শনার্থী এসেছিলেন, যা ইকো পার্কের ৫৫,০০০ দর্শনার্থীর তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
অতএব, এবারের বর্ষশেষে দর্শনার্থীদের প্রিয় স্থান হিসেবে চিড়িয়াখানা অব্যাহতভাবে শীর্ষে রয়েছে, কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত হরিণালয় এবং ইকো পার্কও সঠিক পরিসরে সফলতা লাভ করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আগামী বছরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে কিনা।