বরিশালের শিশুদের গ্রাস করছে পাক ‘গ্রুমিং গ্যাং’: যৌন নির্যাতন
ইংলিশ চ্যানেলের পাড়ে ছড়াচ্ছে এক ভয়াবহ অপরাধচক্র। পাকিস্তানের ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নামে পরিচিত এই দলটি ব্রিটেনের শৈশবকে গ্রাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাবালক-নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে মাদকাসক্তি এবং ধর্মান্তরণ—অসংখ্য অপরাধে জড়িত এই দলটি। সম্প্রতি এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিখ্যাত লেখিকা জে. কে. রাউলিং এবং টেসলা কর্তা ইলন মাস্ক।
রদারহ্যামের করুণ কাহিনি
ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর অস্তিত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ শিশু এই চক্রের শিকার হয়েছে। পুলিশি রিপোর্ট বলছে, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এমনকি ১১ বছরের কিশোরীরাও এই নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। মানব পাচার এবং ধর্মান্তরণেও জড়িত এই চক্র।
কীভাবে কাজ করে এই চক্র?
‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সদস্যরা প্রথমে স্কুল এবং শিশু আবাসিক কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। চকোলেট, উপহার সামগ্রী এবং নানা উপায়ে শিশুদের বিশ্বাস অর্জন করে। এর পর তাদের মাদক এবং মদে আসক্ত করে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। এসবের পাশাপাশি, অনেক সময় তাদের ধর্মান্তরণ করানোর অভিযোগও রয়েছে।

অপরাধীদের পেছনে কারা?
তদন্তকারীদের দাবি, ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর অধিকাংশ সদস্যই পাকিস্তানের নাগরিক। তাদের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কিছু অপরাধীও। ভুক্তভোগী শিশুদের অভিভাবকরা পুলিশের কাছে বহুবার অভিযোগ জানালেও অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পায়নি। এই বিষয়ে পুলিশি অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ইস্যুতে ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারকে সরানোর দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। স্টার্মার যখন ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান ছিলেন, তখনই রদারহ্যাম কেলেঙ্কারির বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, তিনি ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেন। এ নিয়ে ইলন মাস্ক এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
জে. কে. রাউলিংয়ের প্রতিক্রিয়া
‘হ্যারি পটার’-এর স্রষ্টা রাউলিং বিষয়টিকে ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুলিশি দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ধর্ষকদের এই চক্রকে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলে ছোট করে দেখানো উচিত নয়। বরং তাদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা জরুরি।
ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান
সরকার জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা অপরাধীদের প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস এই ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরু এবং কড়া আইন ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন।
পুলিশি সংস্কারের দাবি
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভাগের সংস্কার অপরিহার্য বলে দাবি তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মন্ত্রীদের হাতে পুলিশ এবং সিনিয়র সিভিল সার্ভেন্টদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে।
টমি রবিনসন এবং মাস্কের অবস্থান
এই চক্রের অপকর্ম নিয়ে সোচ্চার ছিলেন সাংবাদিক টমি রবিনসন। তাঁর সমর্থনে ইলন মাস্ক একটি পোস্ট করেছেন। রবিনসন বর্তমানে জেলবন্দি। সমর্থকদের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে চুপ করানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপসংহার
পাকিস্তানের এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’ কেবল শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতি করছে না, বরং ব্রিটেনের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সামনে এনেছে। কঠোর আইন এবং সঠিক তদন্ত ছাড়া এই ভয়াবহ অপরাধচক্রের অবসান সম্ভব নয়।
কোল্ড প্লে গানের অনুষ্ঠানে নোটিস! গায়ক ক্রিস মার্টিনকে আগেই সতর্ক করল গুজরাত প্রশাসন