বয়স শুধু সংখ্যা: ৫৫-এ বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন ‘মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা’র অদম্য জয়

৫৫-এ বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন 'মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা' চিনের ওয়াং জিয়ানরং প্রমাণ করেছেন, বয়স কখনও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না। ৫৫ বছর বয়সে তিনি নিজের নামের পাশে জুড়েছেন বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নের খেতাব, যেটা অর্জন…

March 29, 2025
1 min read

৫৫-এ বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন ‘মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা’

চিনের ওয়াং জিয়ানরং প্রমাণ করেছেন, বয়স কখনও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না। ৫৫ বছর বয়সে তিনি নিজের নামের পাশে জুড়েছেন বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নের খেতাব, যেটা অর্জন করতে পেরেছেন অদম্য অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জেতার গল্প নয়, বরং সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার এক অনন্য উদাহরণ।

স্বপ্নের পথে যাত্রা

ওয়াং যখন শরীরচর্চা শুরু করেন, তখন তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিল—নিজেকে প্রমাণ করা। বয়সের ছাপ শরীরের ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়, এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অনুশীলন এবং স্ব-উৎসর্গের মাধ্যমে তিনি নিজের পেশিবহুল চেহারা গড়ে তুলেছেন।

মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা: চিনা নেটাগরিকদের প্রিয়

চিনের নেট দুনিয়ায় তিনি পরিচিত ‘মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা’ নামে। সংসার সামলানোর পাশাপাশি তিনি সাংহাইতে একটি জিম পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি নিজেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেন। তাঁর জিম শুধুমাত্র শরীরচর্চার স্থান নয়, বরং উৎসাহিত হওয়ার এক কেন্দ্রস্থল।

প্রতিযোগিতায় বাজিমাত

চলতি মাসে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ওয়াং তাঁর থেকে অনেক ছোট প্রতিযোগীদের হারিয়ে বিজয়ী হন। তাঁর আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা এবং মনের জোরই তাঁকে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দেয়।

সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই

শরীরের গঠন নিয়ে কটাক্ষ এবং নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। অনেকেই মনে করেন, পঞ্চাশের পর জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা অসম্ভব। কিন্তু ওয়াং সে সব মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। এখন তিনি ১২৭ কেজি ডেডলিফট, ৯৫ কেজি স্কোয়াট এবং ৭২ কেজি বেঞ্চপ্রেস করতে সক্ষম।

জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন

ওয়াং শুধুই একজন বডিবিল্ডার নন, তিনি অন্য নারীদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা। মধ্যবয়সী নারীদের সুস্থ এবং সক্রিয় থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয় তিনি সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবার এবং অনুরাগীদের সমর্থন

ওয়াংয়ের একমাত্র পুত্র বর্তমানে আমেরিকায় গবেষণারত। তিনি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওয়াংয়ের সাফল্যে গর্বিত। সমাজমাধ্যমেও তিনি জনপ্রিয়, যেখানে তাঁর অনুগামীরা তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরামর্শ গ্রহণ করেন।

উপসংহার

ওয়াং জিয়ানরং প্রমাণ করেছেন যে বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা। ইচ্ছাশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। তাঁর এই সাফল্য সমস্ত নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, বিশেষ করে তাঁদের জন্য, যারা বয়সকে নিজেদের স্বপ্নের পথে বাধা মনে করেন। মাস্‌ল গ্র্যান্ডমা আজও বলেন, “নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন, আর আপনি যা করতে চান, তা করুন।”

বিজেপি-এডিএমকে জোট নিয়ে নতুন জল্পনা: শর্তই কি আলোচনার মূল বিষয়?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *