বয়স শুধু সংখ্যা, কিন্তু শরীর বলে কথা! কলকাতায় এসে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন শর্মিলা ঠাকুর

কলকাতায় এসে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন শর্মিলা ঠাকুর! কলকাতার বাতাসে এক চিরচেনা গন্ধ, সেই গন্ধে মিশে থাকেন শর্মিলা ঠাকুর। ‘পুরাতন’ ছবির মুক্তির উপলক্ষে শহরে এসে একটু যেন মন ভাল হয়ে গিয়েছিল…

April 11, 2025
0 min read

কলকাতায় এসে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন শর্মিলা ঠাকুর!

কলকাতার বাতাসে এক চিরচেনা গন্ধ, সেই গন্ধে মিশে থাকেন শর্মিলা ঠাকুর। ‘পুরাতন’ ছবির মুক্তির উপলক্ষে শহরে এসে একটু যেন মন ভাল হয়ে গিয়েছিল বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর। ঘিয়েরঙা শাড়ি আর লম্বা গলায় হার পরে এক মুহূর্তে ফ্রেমবন্দি হলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সঙ্গে। এই মুহূর্তটাই যেন দুই যুগের দুই নায়িকার মিলনের এক অপূর্ব নিদর্শন।

কিন্তু বয়স তো থেমে থাকে না। শর্মিলা অকপট, “অনেক সিঁড়ি ভেঙে শট দিয়েছি আগের দিনে, কিন্তু এখন আর সে শরীর নেই। এইভাবে আর শুটিং করা সম্ভব নয়।” এতটাই খোলামেলা কথা, যে মনে হয় না তিনি বয়সের ভারে দমে গেছেন—বরং, বয়সকে স্বীকার করেই আরও পরিণত হয়ে উঠেছেন।

কলকাতা সফরটা ছিল সংক্ষিপ্ত। কলেজ স্ট্রিটে কবিতার বই খোঁজা হয়নি, কিন্তু মিষ্টি নিতে ভোলেননি! হাসতে হাসতেই বলেন, “এখানে এসে মিষ্টি না নিয়ে যাওয়া মানে, কলকাতাকে অপমান করা!” তার মাঝেই একান্ত সাক্ষাৎকারে ফিরলেন তাঁর সিনেমাজীবনের প্রথম দিকে—“সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করাটা ছিল আমার ভাগ্য। তারপর থেকেই বাংলা সিনেমার অনেক পরিচালক আমায় নিতে শুরু করলেন। খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। দরজা খুলে গিয়েছিল একরকম।”

তাঁর জীবনের ওঠাপড়া, বন্ধন, বিচ্ছেদ, সব কিছুই তাঁকে গড়েছে এক শক্ত মনের মানুষ হিসেবে। “শিখেছি জীবনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে চলতে। থেমে যাওয়া, হোঁচট খাওয়া—সবই শিক্ষা দিয়েছে,” জানান তিনি।

শর্মিলার অনুরাগীরা এখনই নতুন ছবি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন—ঋতুপর্ণা, প্রসেনজিৎ এবং শর্মিলাকে একসঙ্গে দেখতে চান তাঁরা। নরম হেসে গালে টোল ফেলে বললেন শর্মিলা, “সেই সময় কি আমি থাকব? হয়তো ছবির ফ্রেমেই বাঁধা পড়ব!” পাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে ঋতুপর্ণা বলে ওঠেন, “এই কথা শুনতে চাই না তোমার মুখে। নিশ্চয়ই আবার একসঙ্গে কাজ করব আমরা।”

শুধু অভিনয় নয়, মায়ের অভিজ্ঞতার মূল্যও তুলে ধরলেন শর্মিলা। স্মৃতিচারণ করলেন ছোট্ট সইফকে ফলের রস খাওয়ানোর প্রসঙ্গে। “চিকিৎসকের পরামর্শে রস খাওয়ালেও মা বলেছিলেন জল মেশাতে। শুনিনি। পরে বুঝেছি, মায়ের অভিজ্ঞতা কতটা জরুরি।”

এক প্রশ্ন ছিল আরও—সইফ আলি খান ও ঋতুপর্ণা কি কোনওদিন এক ফ্রেমে আসবেন? শর্মিলা মিষ্টি হেসে বললেন, “হলে খুব ভাল হয়! তবে সেটা আমি বা ঋতু পারব না, ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট শর্মিষ্ঠা পারলেও পারতে পারে!”

এই বয়সেও তাঁর প্রাণচাঞ্চল্য, কৌতুকপ্রিয়তা, স্মৃতিময়তা—সব মিলিয়ে এক চিরসবুজ কিংবদন্তি হয়ে থাকেন শর্মিলা ঠাকুর। তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন, বয়স বাড়ে শরীরে, মনে নয়।

চিন বাদে সব দেশের উপর শুল্কনীতি স্থগিত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে ফিরল স্বস্তি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *