সিনারকে টপকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচ!
৩৮ বছরের ‘বুড়ো’ কি আর ২৪ বছরের তরুণের সঙ্গে পাঁচ সেটের যুদ্ধ টানতে পারেন? শুক্রবার মেলবোর্নে নোভাক জোকোভিচ আবারও প্রমাণ করে দিলেন—অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা আর কোর্ট-আইকিউ থাকলে বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা মহারণে ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেলেন সার্বিয়ান তারকা। স্কোরলাইন বলছে—৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪।
এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্নের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেলেন জোকোভিচ। ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর এটাই তাঁর প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। রবিবার শিরোপার লড়াইয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াবেন শীর্ষ বাছাই, ২২ বছরের কার্লোস আলকারাজ়।
ম্যাচের শুরুটা কিন্তু জোকোভিচের পক্ষে ছিল না। প্রথম সেটেই নিজের সার্ভিস গেম হারান তিনি। সিনার ৬-৩ ব্যবধানে সেট জিতে নিতেই অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন—এটাই বুঝি প্রজন্ম বদলের ইঙ্গিত। শেষ কয়েকটি মুখোমুখি লড়াইয়ে জোকোভিচকে হারানোর অভিজ্ঞতা ছিল ইতালিয়ান তরুণের। তাই আত্মবিশ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো।
কিন্তু ‘জোকার’ মানেই তো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় সেটে দর্শকদের কটাক্ষের জবাব দিলেন খেলাতেই। সিনারকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় করিয়ে ৬-৩ ব্যবধানে সেট ফিরিয়ে নিলেন। ম্যাচ তখন সমতায়।
তৃতীয় সেটে আবার ছন্দে ফেরেন সিনার। ৬-৪ জিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। এখানেই প্রশ্ন উঠছিল—পাঁচ সেটের ম্যাচে কি শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন জোকোভিচ? কিন্তু চতুর্থ সেটে অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে ধরেন সার্বিয়ান। ধৈর্য, নিখুঁত প্লেসিং আর সঠিক সময়ে আক্রমণ—সব মিলিয়ে ৬-৪ সেট জিতে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে।
পঞ্চম সেটের শুরুতে সিনারের দাপট। এক সময় মনে হচ্ছিল, তরুণের শক্তি আর গতি হয়তো শেষ কথা বলবে। কিন্তু দ্বিতীয় সার্ভিস গেমে ১৫-৪০ পিছিয়েও গেম বাঁচান জোকোভিচ। সেখান থেকেই ম্যাচের গতি বদলে যায়। সিনারের পাওয়ার টেনিসের বিরুদ্ধে জোকোভিচ ভরসা রাখলেন নিখুঁত জায়গা নির্বাচন আর প্রতিপক্ষের কোর্ট কভারিংয়ের পরীক্ষা নেওয়ায়। ৩-৩ হওয়ার পর সিনারের সার্ভিস ব্রেক করে এগিয়ে যান। নিজের সার্ভিস ধরে রেখে ৫-৩। শেষ পর্যন্ত নিরাপদ টেনিস খেলে সেট ও ম্যাচ দুটোই পকেটে পুরলেন—৬-৪।
ম্যাচ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সহজ ভুল করে নিজেই যেন অবাক হয়েছিলেন জোকোভিচ। স্নায়ুর চাপ ছিল, তবু শেষ হাসি তাঁরই। এমন একজন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেন, যাঁর কাছে শেষ পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছিলেন। জোকোভিচ আবার ম্যাজিক দেখালেন। এখন অপেক্ষা—আলকারাজ়ের বিরুদ্ধে আর এক ইতিহাসের রাত কি লেখা হবে?
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা