বিশ্বকাপে পর্তুগালের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু ৪১ বছরের রোনাল্ডো!
পরের বছর ফুটবল বিশ্বকাপ। তার আগেই পর্তুগাল শিবিরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন— ৪১ বছরে পা দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি এখনও জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ? এই প্রশ্নের উত্তরে দ্বিধাহীন সমর্থন জানালেন পর্তুগালের মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেস। তাঁর মতে, বয়স কোনও বিষয়ই নয়। রোনাল্ডো মাঠে থাকলে গোটা দলটাই মানসিক ভাবে আলাদা শক্তি পায়। আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। কেউ বলছেন, তরুণদের জায়গা করে দিতে তাঁকে সরে দাঁড়ানো উচিত। আবার কেউ মনে করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা এখনও অমূল্য। এই বিতর্কের মাঝেই ব্রুনো স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, রোনাল্ডো থাকলে পর্তুগালের ভয় পাওয়ার কোনও কারণই নেই। তাঁর উপস্থিতি শুধু গোল করার জন্য নয়, গোটা দলের মানসিক কাঠামোই বদলে দেয়।
এক সাক্ষাৎকারে ব্রুনো বলেন, “ক্রিশ্চিয়ানো যখন মাঠে থাকে, তখন আমরা সবাই অনেক বেশি নিশ্চিন্তে খেলতে পারি। জানি, কঠিন মুহূর্তে ও কিছু একটা করবেই। সেটা গোল হোক বা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা— ও সব সময় দলের কাজে আসে।” তাঁর মতে, বক্সের ভিতরে রোনাল্ডোর দক্ষতা এখনও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে পড়ে।
ব্রুনো আরও জানান, অনেকেই বলেন রোনাল্ডো না থাকলে পর্তুগাল নাকি বেশি স্বাধীন ভাবে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু তিনি মনে করেন, সেটা হলে তার দায় খেলোয়াড়দেরই। “আমরা যদি রোনাল্ডোকে পাশে পেয়ে আরও দায়িত্ব নিতে না পারি, তবে সেটা আমাদের ব্যর্থতা। ওকে পাশে পেলে আসলে আরও সাহসী হওয়া উচিত,” বলেন ব্রুনো।
পর্তুগালের দলের কৌশল নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, দল শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করে না। প্রত্যেকের আলাদা ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি সাধারণত আক্রমণ সাজানোর দায়িত্ব নিই। বার্নার্দো সিলভা বল ধরে রাখতে ও মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আনতে দারুণ। এই বোঝাপড়ার মধ্যেই রোনাল্ডো নিজের জায়গা খুঁজে নেয়। ওকে বল ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিলেই বাকিটা ও সামলে নেয়।”
বয়স বাড়লেও রোনাল্ডোর প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই বলে জানাচ্ছেন সতীর্থরা। অনুশীলনে এখনও তিনি সবার আগে মাঠে নামেন, সবার পরে বেরোন। তাঁর ফিটনেস এবং পেশাদারিত্ব তরুণ খেলোয়াড়দের কাছেও অনুপ্রেরণা। ব্রুনোর মতে, এই মানসিকতাই রোনাল্ডোকে আলাদা করে তোলে।
পর্তুগালের ড্রেসিংরুমে রোনাল্ডোর ভূমিকা কেবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিজ্ঞ এই তারকা তরুণদের পাশে দাঁড়ান, চাপ সামলাতে সাহায্য করেন। বড় ম্যাচের আগে তাঁর উপস্থিতি গোটা দলের স্নায়ুর চাপ কমিয়ে দেয়। ব্রুনোর কথায়, “ও পাশে থাকলে মনে হয়, যে কোনও পরিস্থিতি সামলানো যাবে।”
পরের বছর হয়তো রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ। ট্রফি হাতে তোলার স্বপ্ন এখনও অটুট। সেটা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু একটা বিষয়ে পর্তুগাল শিবিরে কোনও দ্বিমত নেই— ৪১ বছর বয়সেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো শুধুই অতীত নন, তিনি এখনও বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা।