মেসির হাতে অনন্ত অম্বানীর বিলাসী ঘড়ি ঘিরে কৌতূহল!
ভারত সফরের শেষ পর্বে লিয়োনেল মেসির জামনগর যাত্রা ছিল নিঃসন্দেহে বিশেষ। দিল্লি থেকে সূচি বদলে গুজরাতে পৌঁছে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক রিলায়্যান্স ফাউন্ডেশনের ‘বনতারা’য় অতিথি হন অনন্ত অম্বানীর। সঙ্গে ছিলেন মেসির দুই সতীর্থ—রদ্রিগো দি পল ও লুইস সুয়ারেজ়। বন্যপ্রাণী দর্শন, মন্দিরে পুজো, আরতি—সব মিলিয়ে সফরটি ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই সফরের শেষে একটি উপহার ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে হঠাৎই নজর কাড়েন মেসির কবজির একটি সাদা রঙের ঘড়ি। সফরের শুরুতে মেসির হাতে কোনও ঘড়ি দেখা যায়নি। অথচ সফরের শেষদিকে, বিশেষ করে গণেশ মূর্তির সামনে অনন্ত অম্বানীর সঙ্গে দাঁড়ানো একটি ছবিতে, সেই ঘড়িটি স্পষ্ট চোখে পড়ে। তখনই জল্পনা—এই ঘড়ি কি অনন্ত অম্বানীর উপহার?
ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং ঘড়ি বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, মেসির হাতে দেখা ঘড়িটি রিচার্ড মিল ব্র্যান্ডের একটি অত্যন্ত বিরল মডেল—RM 003-V2 GMT Tourbillon Asia Edition। বিলাসী ঘড়ির জগতে এটি কার্যত একটি সংগ্রহযোগ্য শিল্পকর্ম। আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০.৯ কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে এই মডেলের মাত্র ১২টি ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে—যা একে আরও বিশেষ করে তোলে।
এই ঘড়িটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ডুয়াল টাইম জিএমটি ফাংশন, অর্থাৎ একই সঙ্গে দু’টি আলাদা সময় দেখানোর ক্ষমতা। আন্তর্জাতিক সফরে ব্যস্ত একজন ক্রীড়াবিদের জন্য এই সুবিধা নিঃসন্দেহে ব্যবহারিক। ঘড়িটির বেসপ্লেট তৈরি টাইটানিয়াম দিয়ে, যা একদিকে হালকা, অন্যদিকে অত্যন্ত টেকসই। কালো কার্বন কেসের সঙ্গে নীল রঙের ডায়াল, তাতে কালো হরফে লেখা সংখ্যা—সব মিলিয়ে নকশায় আধুনিকতা আর স্পোর্টি ছোঁয়ার নিখুঁত মেলবন্ধন।
জানা যাচ্ছে, এই ঘড়ির নকশা মূলত ফর্মুলা ওয়ান রেসিং থেকে অনুপ্রাণিত। উচ্চগতির খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা, তাঁদের জন্যই এই সিরিজের ঘড়ি তৈরি। মেসির মতো একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের হাতে এই ঘড়ি দেখা যাওয়ায় অনুরাগীদের উত্তেজনা স্বাভাবিক।
যদিও অনন্ত অম্বানী বা মেসির তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে উপহারের কথা নিশ্চিত করা হয়নি, তবু সময়ের মিল, ছবির ধারাবাহিকতা এবং ঘড়িটির বিরলতা—সব মিলিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি নিছক বিলাসের প্রদর্শন নয়, বরং একজন বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদকে সম্মান জানানোর প্রতীক।
ভারত সফর শেষে মেসি বার্সেলোনায় ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু ‘বনতারা’ সফর আর সেই রহস্যময় ঘড়ি—দু’টিই থেকে গেল আলোচনার কেন্দ্রে। মেসির স্মৃতিতে ভারত যে শুধু আতিথেয়তা নয়, একটি অনন্য স্মারকও তুলে দিল, তা বলাই যায়।