খরচে ছাঁটাইয়ে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত বিল সই করে আইনে পরিণত করলেন, যার মাধ্যমে শুরু হল মার্কিন সরকারের খরচ এবং কর কাঠামোয় বড়সড় রদবদল। নিজেই যাকে ‘বড় ও সুন্দর বিল’ বলে অভিহিত করেছেন, সেই ‘কর ও খরচ কাটছাঁটের আইন’ পাস হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে। এই নতুন আইন নিয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকার রাজনীতি ও নাগরিক মহলে আলোড়ন পড়েছে।
নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে বিলটি মাত্র চার ভোটের ব্যবধানে—২১৮ বনাম ২১৪ ভোটে—পাস হয় বৃহস্পতিবার। তার পরদিনই অর্থাৎ শুক্রবার, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির দিনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিলটিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক বিমান প্রদর্শন, দেশাত্মবোধক সুর এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গতিতে ভিড় করেন শতাধিক সমর্থক।
সই করার পরে ট্রাম্প বলেন, “এত খুশি আমি আমাদের দেশবাসীকে আগে কখনও দেখিনি। আমরা পেলাম দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম কর ছাড় এবং খরচ কমানোর আইন। এতে সেনা, সাধারণ নাগরিক সকলেই উপকৃত হবেন।” এ-ও জানান, নতুন আইন সীমান্ত সুরক্ষা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেও অতুলনীয় সহায়ক হবে।
তবে এই আইন যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে, ততটাই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে অন্য মহলে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, সরকারি খরচ ছাঁটাইয়ের ফলে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান স্বাস্থ্য বিমা হারাতে পারেন। কারণ নতুন আইন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অর্থে বড়সড় ছাঁটাইয়ের পথ প্রশস্ত করছে। এমনকি ট্রাম্পের ২০১৭ সালের অস্থায়ী কর ছাড়ের সিদ্ধান্তকেও এই বিল স্থায়ী রূপ দিয়েছে।
এই আইনকে ঘিরে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ এলন মাস্ক। সরকারের খরচ বাঁচাতে ট্রাম্প তাঁর জন্য আলাদা দফতর গঠন করেছিলেন। অথচ নতুন বিল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ইস্তফা দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য, এই আইন দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে, বহু মানুষ চাকরি হারাবেন, এবং এর ফলে তাঁর করা সমস্ত সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
মাস্কের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা আমেরিকার সংস্কার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে, তাদের কড়া জবাব দেওয়া হবে।” এর মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আইনের সামরিক দিকটিও আলাদাভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্বের অর্থনীতি পর্যবেক্ষকরা নজর রাখছেন—এই আইন মার্কিন আর্থিক কাঠামো এবং জনজীবনে আদৌ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, না কি শুরু হবে এক নতুন আর্থিক সঙ্কট।