অল্প বয়সেই নিজেকে ‘স্পয়েলড ব্র্যাট’ বা পেশাদার বখাটে হিসেবে তুলে ধরে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের নজির গড়েছেন ব্লেয়ার রিচার্ডস। নিজের অনন্য পন্থায় আয় করা এই তরুণী সম্প্রতি জানিয়েছেন, গত চার বছরে তিনি সমাজমাধ্যম ও বিভিন্ন ফ্যান পেজকে ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রোজগার করেছেন। তাঁর এই রোজগারের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ কৌশল, যা তিনি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে দিয়েছেন। তবে তাঁর এই কর্মকাণ্ড ঘিরে যেমন প্রশংসা হয়েছে, তেমনি সমালোচনাও কম হয়নি।
কীভাবে আয় করলেন ব্লেয়ার?
ব্লেয়ার রিচার্ডস জানিয়েছেন, তিনি মূলত সমাজমাধ্যম ও ফ্যান পেজের মাধ্যমে উপার্জন করেন। তিনি নিজের কৌশলকে ভিত্তি করে ‘ফিন সাব’ নামের একটি বিশেষ ধারণার ওপর নির্ভরশীল। চলতি ভাষায়, ‘ফিন সাব’ বলতে বোঝায় এমন ব্যক্তিদের, যাঁরা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে তাতে আনন্দ পান। ব্লেয়ার এই ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।
ব্লেয়ারের মতে, এই পদ্ধতিতে আয় করার জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা বা ডেটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, কীভাবে এক ব্যক্তি তাঁকে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে কয়েকশো ডলার পাঠিয়েছিলেন, শুধুমাত্র তাঁর অনুরোধে।

নিজের সৌন্দর্যকে পুঁজি করাই ব্লেয়ারের সাফল্যের চাবিকাঠি
ব্লেয়ার বলেন, যে কেউ তাঁর মতো পেশাদার হতে পারেন। এর জন্য তিনি একটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন—নিজের সৌন্দর্যকে পুঁজি করুন। সমাজমাধ্যমে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়ে এবং সঠিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে কাজ করলেই এই ধরনের উপার্জন সম্ভব। ব্লেয়ার আরও জানান, এই পদ্ধতিতে উপার্জন করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন।
বিতর্কের ঝড়
ব্লেয়ারের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই পন্থা আর্থিক সুবিধার নামে এক ধরনের প্রতারণা। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি একটি নারীবাদী পদক্ষেপ, যেখানে একজন নারী নিজের ক্ষমতা এবং রূপকে ব্যবহার করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন।
সমাজমাধ্যমে ব্লেয়ারের এই কৌশল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ তাঁর সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ একে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ব্লেয়ার জানিয়েছেন, তিনি সমালোচনায় কান দেন না এবং নিজের লক্ষ্যে অটল থাকেন।
‘ফিন সাব’ কী এবং কীভাবে কাজ করে?
‘ফিন সাব’ বা Financial Submission বলতে বোঝায় এমন সম্পর্ক, যেখানে এক পক্ষ আর্থিকভাবে অন্য পক্ষের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এই নির্ভরশীলতা থেকে দু’পক্ষই মানসিকভাবে আনন্দ পায়। ব্লেয়ার মূলত এই ধরনের সম্পর্ককেই কাজে লাগিয়ে নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করেছেন।
তাঁর শেয়ার করা একটি স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, কীভাবে মাত্র কয়েক মুহূর্তে তিনি একটি বিশাল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। ব্লেয়ারের মতে, এই পদ্ধতি একেবারে বৈধ এবং এতে কারও ক্ষতি হয় না।
উপার্জনের ‘নিনজা’ কৌশল
ব্লেয়ার এই উপার্জন পদ্ধতিকে নিজের ‘নিনজা’ কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, নারীদের উচিত নিজেদের ক্ষমতা এবং সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়া। ব্লেয়ারের মতে, সমাজমাধ্যমের যুগে এই ধরনের পেশা গ্রহণ করা একেবারেই সহজ এবং ফলপ্রসূ।
তাঁর এই সফলতার কাহিনি অনেককে অনুপ্রাণিত করলেও, এটি অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে। ব্লেয়ার যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, তা স্পষ্ট। তবে তিনি নিজের পথ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং বলেন, ‘‘আমি যা করি, তাতে আমি গর্বিত।’’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ব্লেয়ারের এই সফলতা নিয়ে আলোচনা চললেও, তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় প্ল্যাটফর্মে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে তাঁর এই পথ কি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে, নাকি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে, তা সময়ই বলবে।
ব্লেয়ারের গল্প প্রমাণ করে, সমাজমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সঠিক কৌশলে এটি হতে পারে বিশাল উপার্জনের উৎস। তবে এটি গ্রহণযোগ্যতা বা নৈতিকতার নিরিখে কতটা টেকসই, তা নিয়েই রয়েছে নানা প্রশ্ন।
১৮ বছরের কমবয়সিদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বড়দের অনুমতি বাধ্যতামূলক: কেন্দ্রের নতুন প্রস্তাবিত আইন