ফ্যাটি লিভারে স্ন্যাক্স নিয়ে আর নয় বিভ্রান্তি!!
বর্তমান জীবনযাত্রায় ফ্যাটি লিভার এখন আর অচেনা কোনও সমস্যা নয়। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, শরীরচর্চার অভাব, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার কারণে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকেই দুপুর ও রাতের খাবারে সতর্ক থাকেন, কিন্তু সান্ধ্য খাবার বা স্ন্যাক্সের ক্ষেত্রে ভুল করে ফেলেন। খিদে মেটাতে ভাজাভুজি, চিপস, মিষ্টি বা প্যাকেটজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন অনেকে। কিন্তু ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর কিছু বিকল্প বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
এমস এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক সৌরভ শেট্টীর মতে, ফ্যাটি লিভারের রোগীরা স্ন্যাক্স হিসেবে কয়েকটি পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে পারেন।
১. বাদাম ও বীজ
সন্ধ্যার খিদে মেটাতে আখরোট, আমন্ড, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া বীজ বা তিসির বীজ খাওয়া যেতে পারে। অনেকেই ফ্যাটের ভয়ে বাদাম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের জন্য উপকারী। পরিমিত পরিমাণে খেলে এগুলি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।
২. পনির বা মোৎজ়ারেলা চিজ়
পনির বা মোৎজ়ারেলা চিজ় দিয়ে তৈরি সাধারণ স্ন্যাক্সও ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন ও ক্যালশিয়াম দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত নুন বা বেশি প্রক্রিয়াজাত চিজ় এড়িয়ে চলাই ভাল।
৩. অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি ভাল উৎস। এতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। নুন ও সামান্য গোলমরিচ দিয়ে এটি খাওয়া যেতে পারে। শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এই ফল উপকারী।
৪. গ্রিক ইয়োগার্ট বা টক দই
দই বা গ্রিক ইয়োগার্টের সঙ্গে কিছু বাদাম ও বীজ মিশিয়ে খেলে তা হয়ে উঠতে পারে আদর্শ জলখাবার। এতে প্রোটিন থাকে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার জন্যও এটি ভাল। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে বিপাকীয় সমস্যার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
৫. সব্জির স্ন্যাক্স
শসা, গাজর, সেলারির মতো সব্জি ছোট টুকরো করে খাওয়া যেতে পারে। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে। ফলে পেট ভরা থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে না। এর সঙ্গে কাবুলি ছোলা ও তাহিনি দিয়ে তৈরি হুমাস খেলে প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ আরও বাড়ে।
৬. সেদ্ধ ডিম
সহজে তৈরি করা যায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে বলে সেদ্ধ ডিম ভাল স্ন্যাক্স হতে পারে। এতে রয়েছে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। তবে কতটা ডিম খাওয়া উচিত, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা ভাল।
৭. ভাপানো এডামামে
এডামামে বা খোসা-সহ কাঁচা সয়াবিন ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে। অল্প জলে ভাপিয়ে সামান্য নুন দিয়ে খাওয়া যায়। এতে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ খিদে পেলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে এই ধরনের পুষ্টিকর স্ন্যাক্স বেছে নেওয়াই হতে পারে ভাল সিদ্ধান্ত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?