ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙতেই চোখের জল বৈভবের!
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএলের সবচেয়ে বড় তারকাদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলের জয় যে অনেক বড়, তা আরও একবার প্রমাণ করল তরুণ ব্যাটারের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারের পর আইপিএল থেকে বিদায় নেয় রাজস্থান রয়্যালস। আর সেই হতাশার মুহূর্তেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৈভব। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কমলা টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না লুকানোর চেষ্টা করলেও আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
পুরো মরসুমে রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা ছিলেন বৈভব। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করে তিনি এখন কমলা টুপির দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০, যা এই মরসুমের অন্যতম সেরা। শুধু রানই নয়, আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও নজর কেড়েছেন তিনি। বৈভবের ব্যাট থেকে এসেছে রেকর্ড ৭২টি ছক্কা এবং ৬৩টি চার।
ভারতীয় দলের অধিনায়ক Shubman Gill-এর থেকেও ৫৪ রান বেশি করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এই কিশোর। কিন্তু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব সত্ত্বেও দলকে ফাইনালে তুলতে না পারার আক্ষেপ যেন গ্রাস করে নিয়েছিল তাঁকে।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বৈভব লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত। ওপেন করতে নেমে ৪৭ বলে ৯৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। ১৮তম ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে জয়ের আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই সফল হয়নি।
ম্যাচের পরে তাঁর কান্নার দৃশ্য শুধু সমর্থকদেরই আবেগপ্রবণ করেনি। প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার ও ধারাভাষ্যকার Ravichandran Ashwin-কেও চোখের জল মুছতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিওও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
রাজস্থানের সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, এই কান্না আসলে একজন প্রকৃত প্রতিযোগীর কান্না। যিনি ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলের সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। এত কম বয়সে এমন মানসিকতা বৈভবকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
যদিও আইপিএলের যাত্রা শেষ, তবু বৈভবকে ঘিরে উন্মাদনা থামার কোনও লক্ষণ নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন কবে তাঁকে ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে। আগামী কয়েক মাসে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে ভারতের। অনেকেরই ধারণা, জিম্বাবোয়ে সফরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হতে পারে এই বিস্ময় বালকের।
ফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও বৈভব সূর্যবংশীর স্বপ্নের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ। আর শুক্রবারের সেই চোখের জল হয়তো ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যেরই ইঙ্গিত দিয়ে গেল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?