বছরে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা কর দেয় বিসিসিআই!
জাতীয় ক্রীড়া আইন নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের দাবি, অন্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির মতো তারা কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং প্রতি বছর সরকারকে বিপুল পরিমাণ কর দেয় বিসিসিআই। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে নতুন জাতীয় ক্রীড়া আইনের আওতায় আসতে তাদের আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া।
শুক্রবার বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভার পর শইকীয়া জানান, বোর্ড নিয়মিত কর দিয়ে থাকে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা কর দেয় বিসিসিআই। বার্ষিক সাধারণ সভায় এই তথ্য জানানো হলে উপস্থিত প্রতিনিধিরা তা শুনে হাততালি দিয়ে অভিনন্দনও জানান বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া আইন নিয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থান অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের নজরেও এসেছে। অন্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলি যখন সরকারি কাঠামোর মধ্যে কাজ করে, তখন বিসিসিআই কেন একই নিয়ম মেনে চলবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে বোর্ডের তরফে আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং স্বশাসনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শইকীয়া জানিয়েছেন, আইন নিয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থান পরিষ্কার। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রথমে প্রয়োজনীয় কাজগুলি সম্পূর্ণ করতে হবে। এর পর বিসিসিআইকে আইনের আওতায় আনার জন্য নির্দিষ্ট স্বীকৃতি বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। সেই বিজ্ঞপ্তি হাতে পেলেই বোর্ড নতুন আইন অনুযায়ী কাজ শুরু করবে।
অর্থাৎ জাতীয় ক্রীড়া আইনের আওতায় আসার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের আপত্তি নেই, তবে তার আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দাবি করছে বোর্ড। শইকীয়ার কথায়, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে আলোচনার পর উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি হয়নি।
আগামী ২৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। সেই দিন আদালতের সামনে বিসিসিআইয়ের অবস্থান আরও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব।
বিসিসিআইয়ের যুক্তির মূল জায়গায় রয়েছে তাদের আর্থিক কাঠামো। অন্যান্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা যেখানে সরকারি অনুদানের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল, সেখানে বিসিসিআই নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সরকারের কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর জমা দেয়। সেই কারণেই বর্তমান কাঠামোয় অন্য সংস্থাগুলির সঙ্গে নিজেদের এক ভাবে দেখতে নারাজ বোর্ড।
তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সরকারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে নতুন জাতীয় ক্রীড়া আইন মেনে চলার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের তরফে আপাতত ইতিবাচক বার্তাই দেওয়া হয়েছে। এখন নজর ২৭ অক্টোবরের শুনানির দিকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।