ফলহারিণী কালীপুজো ২০২৬
Phalaharini Kali Puja বাঙালি হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। বিশেষ করে মা কালীর উপাসকদের কাছে এই পুজোর আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই পুজো পালিত হয়। ২০২৬ সালে ফলহারিণী কালীপুজো পড়েছে ১৬ মে। কিছু জায়গায় ১৫ মে রাত থেকেই পুজোর আচার শুরু হবে।
কী এই ফলহারিণী কালীপুজো?
“ফলহারিণী” শব্দের অর্থ হল যিনি কর্মফল নাশ করেন। শাক্ত মতে, মা কালীর এই রূপ মানুষের পাপ, দুঃখ ও জীবনের নেতিবাচক কর্মফল দূর করেন। তাই এই পুজোকে আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক মুক্তির এক বিশেষ সাধনা হিসেবেও দেখা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, জীবনের নানা ভুল, কষ্ট এবং কর্মের বন্ধন থেকে মুক্তির জন্য এই দিনে মা কালীর আরাধনা অত্যন্ত ফলদায়ক। অনেক ভক্ত এই দিনে উপবাস রাখেন এবং রাত্রিবেলা বিশেষ পুজো করেন।
পুজোর বিশেষ তাৎপর্য
Ramakrishna Paramahamsa-র জীবনেও এই পুজোর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। কথিত আছে, তিনি ফলহারিণী কালীপুজোর দিনই মা সারদাকে দেবীর আসনে বসিয়ে পূজা করেছিলেন। সেই ঘটনাকে শাক্তধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়।
এই পুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, অনেকের কাছে এটি আত্মসমর্পণ, অন্তরের অশান্তি দূর করা এবং নতুন করে মানসিক শক্তি ফিরে পাওয়ারও প্রতীক।
কী কী নিয়ম মানা হয়?
ফলহারিণী কালীপুজোয় সাধারণত রাতে পুজো হয়। ভক্তরা মায়ের উদ্দেশে প্রদীপ, ধূপ, ফুল, ফল ও ভোগ নিবেদন করেন। অনেক জায়গায় কীর্তন, আরতি ও নামসংকীর্তনের আয়োজনও করা হয়।
আগে কিছু অঞ্চলে পশুবলির প্রথা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ জায়গায় তার বদলে লাউ, কুমড়ো বা আখ বলি দেওয়ার রীতি দেখা যায়।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই পুজো?
শাস্ত্র মতে, মানুষের প্রতিটি কাজের একটি “কর্মফল” থাকে। সেই কর্মফলের বন্ধন থেকেই জন্ম নেয় সুখ-দুঃখ, মোহ ও মানসিক অশান্তি। ফলহারিণী কালীকে সেই কর্মফল নাশকারী শক্তি হিসেবে মানা হয়। তাই এই পুজোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতি নয়, আত্মিক মুক্তির পথ হিসেবেও দেখা হয়।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা