প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে স্বামী, মোবাইল ভাঙতেই বধূকে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ মালদহে

প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে স্বামী মালদহের মানিকচকে ভয়াবহ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অশান্তির জেরে এক তরুণীকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। কয়েক…

August 8, 2026
1 min read

প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কলে স্বামী

মালদহের মানিকচকে ভয়াবহ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অশান্তির জেরে এক তরুণীকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় ২০ বছরের চুন্নির খাতুনের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি মানিকচক থানার নুরপুর পঞ্চায়েত এলাকার। মৃতার স্বামী সামিউল শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুন্নির বাড়ি বিহারের কাটিহারে। প্রায় এক বছর আগে সম্বন্ধ করে সামিউলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

চুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামীর আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় তাঁর। পরে জানতে পারেন, স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে সামিউলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওই সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে পরিবারের দাবি। সামিউল স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন বলে অভিযোগ।

ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়িতে বসে ওই তরুণীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলছিলেন সামিউল। চুন্নি বিষয়টি দেখে ফেলায় দু’জনের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় চুন্নি স্বামীর মোবাইল আছাড় মেরে ভেঙে দেন।

এর পরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। চুন্নির পরিবারের দাবি, মোবাইল ভেঙে দেওয়ার জন্য সামিউল তাঁকে একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়েরা ছুটে এসে উদ্ধার করলেও তত ক্ষণে শরীরের অধিকাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুন্নিকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। বার্ন ইউনিটে কয়েক দিন চিকিৎসার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

চুন্নির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সামিউলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনায় চুন্নির দেওর আনেস শেখ, ননদ চামেলি বিবি এবং শাশুড়ি দিলনুর বিবির বিরুদ্ধেও মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে নাম থাকা ওই তিন জন বর্তমানে পলাতক।

চুন্নির আত্মীয়দের দাবি, বিয়ের পর প্রথম দিকে তাঁদের সংসারে বড় কোনও সমস্যা ছিল না। গত তিন মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়। সামিউলের অন্য এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বার বার অশান্তি চলছিল। তবে সেই বিবাদ যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। চুন্নির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *