প্রেমিককে শেষ বার্তা পাঠিয়ে মৃত্যুকে বেছে নিলেন তরুণী, রহস্যে মোড়া ঘটনা নিয়ে তদন্তে পুলিশ

রহস্যে মোড়া ঘটনা নিয়ে তদন্তে পুলিশ দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিবেকানন্দ পার্কের একটি ভাড়া করা ঘর থেকে উদ্ধার হলো এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ।…

September 8, 2025
1 min read

রহস্যে মোড়া ঘটনা নিয়ে তদন্তে পুলিশ

দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিবেকানন্দ পার্কের একটি ভাড়া করা ঘর থেকে উদ্ধার হলো এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম সুদীপ্তা মাইতি। বয়স খুব বেশি নয়, তবু জীবনের প্রতি এতটা অনীহা কেন জন্মাল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সবার মনে।

শনিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না জড়িয়ে ঝুলছিল সুদীপ্তার নিথর দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। তাঁকে মৃত অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয়। তবে কেন এই চরম পদক্ষেপ নিলেন তিনি, তার সঠিক উত্তর এখনো মেলেনি।

ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে একটি ভিডিয়ো বার্তা। পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মহত্যার আগে নিজের প্রেমিক রাহুলকে একটি ভিডিয়ো পাঠান সুদীপ্তা। সেই ভিডিয়োয় তিনি স্পষ্ট জানান, গলায় ফাঁস লাগিয়ে জীবন শেষ করতে চলেছেন। ভিডিয়ো পাওয়ার পর রাহুল ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান মর্মান্তিক সেই দৃশ্য— ফ্যান থেকে ঝুলছেন সুদীপ্তা। তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

সুদীপ্তা এই এলাকায় কিছুদিন ধরেই একা থাকতেন। ঘর ভাড়া নিয়ে তাঁর এই শহুরে জীবন শুরু হলেও, মানসিক দিক থেকে কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, তা কারোরই জানা ছিল না। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তেমন কোনো অস্বাভাবিক আচরণ তাঁকে করতে দেখা যায়নি। তাই হঠাৎ এই ঘটনার পর তাঁরা হতবাক।

পুলিশ এখনো মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন সুদীপ্তা। তবে প্রেমিক রাহুলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কি এর পেছনে দায়ী, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা তাঁকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদেরও ডাকা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে মেয়েটির মানসিক অবস্থা ও সাম্প্রতিক সময়ের কথাবার্তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। পাশাপাশি রাহুলের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, তিনি-ই শেষবার সুদীপ্তার কাছ থেকে বার্তা পেয়েছিলেন।

এমন এক মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবারকেই ভেঙে দেয়নি, আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে পুরো মহল্লাকে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয়দের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। প্রতিবেশীদের অনেকেই বলেছেন, যদি কেউ আগে থেকে তাঁর কষ্ট বুঝতে পারতেন, হয়তো তাঁকে সাহায্য করা যেত।

পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এক তরুণীর এভাবে অকালমৃত্যু আবারও সামনে নিয়ে এল প্রশ্ন— মানসিক অবসাদ কিংবা ব্যক্তিগত সংকটের সময় পরিবার ও বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানো কতটা জরুরি।

বাঁশদ্রোণীর এই ঘটনার পর সবার মুখেই একটাই কথা— জীবন যতই কঠিন হোক, সমাধান মৃত্যুর মধ্যে খুঁজে পাওয়া উচিত নয়। সমাজ যদি এই বার্তাই নিতে পারে, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি রোখা সম্ভব হবে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *