প্রতি বছরে দুই কোটি চাকরি! মোদীর প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে নতুন করে উঠছে প্রশ্ন

প্রতি বছরে দুই কোটি চাকরি!! ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজকে এক বড় আশ্বাস দিয়েছিলেন—প্রতি বছর দুই কোটি চাকরি। সেই প্রতিশ্রুতি শুনে বহু তরুণ…

July 16, 2025
1 min read

প্রতি বছরে দুই কোটি চাকরি!!

২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদী দেশের যুবসমাজকে এক বড় আশ্বাস দিয়েছিলেন—প্রতি বছর দুই কোটি চাকরি। সেই প্রতিশ্রুতি শুনে বহু তরুণ আশায় বুক বেঁধেছিলেন। আজ এক দশক পেরিয়ে এসে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে ফের সরব হয়েছে বিরোধীরা। শুধু বিরোধী শিবিরই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দুই কোটির চাকরির প্রতিশ্রুতি কি কেবলই নির্বাচনী প্রচারের অংশ ছিল?

বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে ওই সময় উল্লেখ ছিল, দেশের শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিক জনসভায় এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই কথা পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।

কিন্তু সরকারি তথ্য এবং রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। নানা সমীক্ষা ও জাতীয় নমুনা সমীক্ষা অফিস (NSSO)-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে কর্মসংস্থানের হার আশানুরূপভাবে বাড়েনি। ২০১৭-১৮ সালের প্লাইম্যান রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে বেকারত্বের হার পৌঁছেছিল গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

বিরোধীরা বার বার দাবি তুলেছে, সরকারের তরফে প্রকৃত চাকরির সংখ্যা না জানিয়ে ‘কর্মসংস্থান’ শব্দটিকে ইচ্ছেমতো ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, কেউ অল্প সময়ের অস্থায়ী কাজ করলেও কিংবা রাস্তায় ছোট ব্যবসা করলেও সেটাকেও কর্মসংস্থানের আওতায় ফেলা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারেও এই ইস্যু উঠে এসেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ একাধিক বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রী মোদীর পুরনো বক্তৃতার ভিডিও সামনে এনে বলছে, “প্রতি বছর দুই কোটি চাকরির কথা বলে মোদী সরকার ভোট পেয়েছিল। এখন সেই প্রতিশ্রুতি কোথায়?”

যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দাবি করছে, গত এক দশকে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া-র মতো প্রকল্পগুলির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য বলছেন, প্রকল্প থাকলেও দেশের মোট শ্রমবাজারের তুলনায় সেটির প্রভাব খুবই সামান্য। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভারতের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে শুধু সরকারি প্রকল্প দিয়ে এত বড় মাপের কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। বেসরকারি ক্ষেত্রেও বড় মাত্রায় বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন না হলে লক্ষ লক্ষ চাকরি তৈরি কঠিন।

এছাড়া কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভারতের অর্থনীতি কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। বহু ছোট-মাঝারি সংস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও, বেকারত্ব পরিস্থিতি এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মোদীর দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বাস্তবের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির ফারাক কতটা, তার উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষও। এখন দেখার, আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই ইস্যু বিজেপির কতটা লাভ বা ক্ষতি করে।

ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনে ধামাকা ডিসকাউন্টে বাজেট স্মার্টফোনের দারুণ অফার চলেছে—নিচে কিছু হাইলাইট আর শীর্ষ—৪ ফোনের তালিকা দেয়া হলো

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *