শুভেন্দুকে থামালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক!
বিজেপির ‘আদি’ নেতাদের ফের সক্রিয় করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সম্মেলন। কিন্তু সেই মঞ্চেই এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত তৈরি হল, যখন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-কে প্রকাশ্যে সংযত থাকার বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সামনে শমীকের স্পষ্ট নির্দেশ— “ভবিষ্যতের কোনও সভায় আপনি এই কথাটা আর বলবেন না।”
ঘটনার সূত্রপাত শুভেন্দুর বক্তব্য থেকেই। ভাষণে তিনি বিজেপির অভ্যন্তরে বিভিন্ন ‘গোত্র’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, একদল নেতা আছেন যাঁরা অন্য দল থেকে বিতাড়িত হয়ে বা সুযোগ না পেয়ে বিজেপিতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় দল বদল করেছেন। নিজেকে সেই দ্বিতীয় শ্রেণির নেতা হিসেবে তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, তিনি পাঁচটি মন্ত্রিত্ব এবং তিনটি সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের আমন্ত্রণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
শুভেন্দুর বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মাইক হাতে নেন শমীক। কোনও ভূমিকা না বেঁধে তিনি সরাসরি বলেন, “আপনি এখন বিজেপির অংশ। বার বার অতীতের ত্যাগের কথা বলে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্যে প্রেক্ষাগৃহে করতালির শব্দ শোনা যায়। শমীকের কণ্ঠে ছিল অভিভাবকসুলভ দৃঢ়তা— আবেদন নয়, স্পষ্ট বার্তা।
অনুষ্ঠানের বাইরে অবশ্য শমীক আর এ বিষয়ে কথা বলেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যাখ্যা, রাজ্য সভাপতি বোঝাতে চেয়েছেন— শুভেন্দু এখন আর ‘নতুন’ নন, দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীর মতোই তিনি বিজেপির আপনজন। নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে গিয়ে এমন বিভাজনের ভাষা ব্যবহার করলে তা দলের ক্ষতি করতে পারে।
তবে দলের একাংশ মনে করছে, বিষয়টি এত সরল নয়। তাঁদের মতে, শুভেন্দু দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে তৃণমূল বা অন্য দল থেকে আসা নেতাদের থেকে আলাদা করে দেখাতে চেয়েছেন। আগেও নানা সভায় তিনি বলেছেন, অন্যরা সুযোগ না পেয়ে বিজেপিতে এলেও তিনি এসেছেন ত্যাগ স্বীকার করে, শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকে। বৃহস্পতিবারের সভাতেও সেই বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন তিনি— যে তিনি কোনও ‘হেঁজিপেঁজি’ নেতা নন।
এই জায়গাতেই হস্তক্ষেপ করেন শমীক। অনেকের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলে ‘আদি’ বনাম ‘নব্য’ বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। রাজ্য সভাপতি তা অঙ্কুরেই থামাতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, বিজেপিতে পুরনো-নতুন বলে কিছু নেই— সবাই একসঙ্গে দল।
আসলে সম্মেলনের লক্ষ্যই ছিল ঐক্যের ছবি তুলে ধরা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী-র জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ‘আদি’ নেতাদের ডাকা হয়েছিল। উদ্দেশ্য— তাঁদের আবার সক্রিয় করে আসন্ন নির্বাচনের আগে দলকে শক্তিশালী করা।
সেই লক্ষ্যেই শমীকের শেষ কথাগুলি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ— “কোনও আদি নেই, কোনও নব্য নেই। সবাই শুধু বিজেপি।” প্রকাশ্য মঞ্চে শুভেন্দুকে থামিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ঐক্যের প্রশ্নে কোনও আপস নেই।