পশু-মিম আদানপ্রদানে বাড়ে সম্পর্কের গভীরতা, বলছে গবেষণা
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামে একে অপরের সঙ্গে মিম, ভিডিয়ো ভাগ করে নেওয়া যেন রোজকার অভ্যেস। কিন্তু জানেন কি, শুধুই চটুল বিনোদন নয়, এই ‘শেয়ারিং’-এর মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে সম্পর্কের আন্তরিক ইঙ্গিত? সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশেষত পশুদের মিম বা ভিডিয়ো আদানপ্রদান করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মিম নয়, এ যেন ভালবাসার ‘পেবলিং’!
জার্নাল অফ কনজ়িউমার রিসার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, প্রাণীদের ভিডিয়ো বা মিম শেয়ার করার মাধ্যমে অনেকে অজান্তেই একে অপরের প্রতি স্নেহ, যত্ন এবং অনুভূতির প্রকাশ ঘটান। এই প্রক্রিয়াটিকে তুলনা করা হয়েছে পেঙ্গুইনদের একটি বিশেষ অভ্যেসের সঙ্গে— যাকে বলা হয় ‘পেবলিং’। পেঙ্গুইনরা যখন কাউকে পছন্দ করে, তখন তারা পাথর বা বরফের ছোট টুকরো উপহার দেয়। সেটিই ভালোবাসার নিদর্শন। গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পশু মিম শেয়ার করাও ঠিক তেমনই এক আধুনিক ‘পেবলিং’।
কার সঙ্গে কেমন শেয়ার?
গবেষণায় অংশ নেওয়া ২১ জন প্রাণী-ভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা এবং ১২ জন মিম প্রেমীর ওপর বিশ্লেষণ চালানো হয়। দেখা গেছে, কার সঙ্গে সম্পর্ক যেমন, তার ভিত্তিতেই বদলে যায় শেয়ার করা কনটেন্টের ধরন। এক বন্ধু পেতে পারে হাসির বিড়াল, তো কাছের কেউ পেতে পারে আদুরে কুকুরছানার ভিডিয়ো। এমনকি কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক টুকরো অনুভূতি প্রকাশ করতেও মিমের দ্বারস্থ হন।
গবেষক ঘালিয়া শ্যামালে বলেন, “অনেক সময়ে কোনও কথাবার্তা না বলেই শুধুমাত্র একটি প্রাণীর মিমই জানিয়ে দেয়, ‘আমি তোমার কথাই ভাবছিলাম’। এটি এক ধরনের আবেগপ্রবণ যোগাযোগ।”
মানসিক স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব
শুধু সম্পর্ক নয়, পশু-ভিত্তিক কনটেন্ট আদানপ্রদান মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উপকারী। গবেষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে, যারা প্রাণীদের ভিডিয়ো বা মিম বেশি শেয়ার করেন, তাঁদের মধ্যে হালকা মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা একাকীত্ব দূর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ এই ধরনের কনটেন্ট মানুষকে আবেগতাড়িত করে এবং তাতে হরমোনগত সুস্থতাও বজায় থাকে।
আপনি কবে কাকে পাঠিয়েছিলেন শেষবারের মতো একটি প্রাণীর মিম?
পরীক্ষা করে দেখুন, হয়তো সেটিই ছিল আপনার তরফে একটা ছোট্ট যত্নের প্রকাশ— মুখে না বলা একটি “আমি ভাবছি তোমার কথা”। ডিজিটাল যুগে যে সম্পর্ক শুধু ফোনে কথা বলেই গড়ে ওঠে না, বরং এক টুকরো ‘কিউট’ ভিডিয়ো বা হাসির ছবি দিয়েও অনেক কিছু বলা যায়— সে কথাই যেন মনে করিয়ে দেয় এই গবেষণা।
জৌলুস ছেড়ে যোগপথে জ্যাকলিন! রবি শঙ্করের আশ্রমে আধ্যাত্মিক শরণ