পেঁয়াজ-রসুনে আগুন, কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলা?
উৎসবের মরসুম দরজায় কড়া নাড়ছে। তার আগেই বাজারের চড়া দামে চিন্তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের। অগস্টের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান বলছে, এক মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও রসুনের দামে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। তবে সব্জির বাজারে ছবিটা একরকম নয়—কিছু পণ্যের দাম আবার কমেছেও।
কেন্দ্রের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৪.৮২ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিও ৫.৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচের উপর চাপ আরও বেড়েছে।
গ্রাম এবং শহর—দুই জায়গাতেই খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জুলাইয়ে গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫.৭৯ শতাংশ, অগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৬.১৩ শতাংশ। শহরাঞ্চলে একই সময়ে ৫.০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.৬৪ শতাংশ।
সব্জির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পেঁয়াজ ও রসুন। জুলাইয়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির হার ছিল ২২.৫৪ শতাংশ। অগস্টে সেটাই এক লাফে ৪৮.২৭ শতাংশে পৌঁছেছে। রসুনের ক্ষেত্রেও একই ছবি—৩৫.৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩.৬০ শতাংশ। তবে আদার দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। জুলাইয়ের ৮৩.৫৭ শতাংশ থেকে অগস্টে তার মূল্যবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩.৮২ শতাংশে।
আবার টম্যাটো, আলু, ঢেঁড়শ এবং কুদ্রির দাম অগস্টে কমেছে। এই সব্জিগুলির মূল্যবৃদ্ধির হার যথাক্রমে -৩১.০৯, -১৩.১৪, -৫.৪১ এবং -৩.৬০ শতাংশে নেমেছে।
রাজ্যভিত্তিক হিসাবেও ছবিতে বড় পার্থক্য রয়েছে। অগস্টে সবচেয়ে বেশি খুচরো মুদ্রাস্ফীতি দেখা গিয়েছে তেলঙ্গানায়—৬.২৭ শতাংশ। দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউয়ে তা ৬.২২ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে ৫.৯২, পুদুচেরিতে ৫.৮৫, মধ্যপ্রদেশে ৫.৫৫ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ৫.৫৩ শতাংশ।
এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ অবশ্য তুলনামূলক স্বস্তির জায়গায় রয়েছে। অগস্টে রাজ্যে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.২৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে তা ২.৮৫ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩.৬২ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড় ৪.৮২ শতাংশের তুলনায় বাংলায় মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ কম।
তবে সামগ্রিক প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। মে মাসে দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৩.৯৩ শতাংশ। জুনে তা বেড়ে ৪.৩৮, জুলাইয়ে ৪.৪৫ এবং অগস্টে ৪.৮২ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি মুদ্রাস্ফীতিও অগস্টে ৯.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে।
দাম বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রের বৈঠকও হয়েছে। সুদের হার নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ সুদের হার বাড়লে ঋণের কিস্তি বাড়তে পারে, আবার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে উৎসবের আগে বাজারে কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি মিললেও পেঁয়াজ-রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব্জির চড়া দাম সাধারণ মানুষের চিন্তা বাড়াচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে আর নতুন করে দাম না বাড়লে খুচরো বাজারেও পরিস্থিতি দ্রুত কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।