পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বাঙালি পর্যটকদের সঙ্গে পুলিশকর্মীর হাতাহাতি, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুলিশকর্মীর হাতাহাতি পুরী, ভারতীয় পর্যটকদের অন্যতম তীর্থস্থান, বিশেষ করে বাঙালি পর্যটকদের জন্য এক প্রিয় গন্তব্য। তবে এবারে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তি ও শ্রদ্ধার পরিবেশে ঘটল এক অপ্রীতিকর…

November 10, 2024
0 min read

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুলিশকর্মীর হাতাহাতি

পুরী, ভারতীয় পর্যটকদের অন্যতম তীর্থস্থান, বিশেষ করে বাঙালি পর্যটকদের জন্য এক প্রিয় গন্তব্য। তবে এবারে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তি ও শ্রদ্ধার পরিবেশে ঘটল এক অপ্রীতিকর ঘটনা, যেখানে বাঙালি পর্যটকদের একটি দলের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় দুই পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মন্দির দর্শনের সময় পুলিশকর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদ

শনিবার বিকেলে ঘটে এই অপ্রীতিকর ঘটনা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাঙালি পর্যটকদের একটি দল মন্দির দর্শন করতে গিয়ে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গুপ্তেশ্বর রুত্রে নামে এক পুলিশকর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এই বচসার সূত্রপাত হয় মন্দিরের একটি নির্দিষ্ট প্রবেশপথ নিয়ে। অভিযোগ, মন্দিরে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট দরজার পরিবর্তে ওই বাঙালি পর্যটকদের পাঁচ জনের দলটি মন্দিরের নির্গমন দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে গুপ্তেশ্বর তাদের থামানোর চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, ওই বাঙালি পর্যটকরা নির্দেশ অমান্য করে প্রবেশের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বচসা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পুলিশের অভিযোগ, ওই পর্যটকরা ওই পুলিশকর্মীর উপর হামলা চালান। ঘটনায় পুলিশকর্মী গুপ্তেশ্বর কিছুটা আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

বাঙালি পর্যটকদের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশকর্মীর অভব্য আচরণ

অন্যদিকে, বাঙালি পর্যটকরা এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং তাদের পাল্টা বক্তব্য, পরিস্থিতির জন্য পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণই দায়ী। তাদের দাবি, ঘণ্টিদ্বারের কাছে প্রচুর ভিড় ছিল, যার কারণে তারা অসুবিধায় পড়েছিলেন। ভিড়ের চাপে তারা এগোতে না পারায় কিছুক্ষণের জন্য আটকে পড়েছিলেন। এই অবস্থায় পুলিশকর্মী গুপ্তেশ্বর তাদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করেন এবং অবজ্ঞাসূচক কথা বলেন। পর্যটকদের কথায়, এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ঝামেলার সূত্রপাত।

এক পর্যটকের ভাষায়, “মন্দিরের পরিবেশে আমরা শান্তি চাইছিলাম, কিন্তু ওই পুলিশকর্মী একেবারেই সহযোগিতা করেননি। আমাদের সঙ্গে তিনি যে ভাষায় কথা বলছিলেন, তা অত্যন্ত অপমানজনক।” তারা দাবি করেন, হামলার কোনও পরিকল্পনা তাদের ছিল না এবং পুলিশ তাদের উপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ করছে। এই ঘটনায় পর্যটকরা শারীরিক বা মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

থানায় এফআইআর দায়ের, চলছে তদন্ত

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ঘটনার পর দু’পক্ষই সিংহদ্বার থানায় গিয়ে আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রাথমিকভাবে দু’পক্ষকেই থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিংহদ্বার থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে আমরা উভয় পক্ষের অভিযোগকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আসল ঘটনা কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মন্দিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু প্রবেশের জন্য নির্দেশিকা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টিদ্বারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার উদ্দেশ্য সকল ভক্তের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল মন্দির দর্শন নিশ্চিত করা। তবে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন যে, মন্দির প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময়ই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে ভক্তদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, যা পুলিশকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বহিরাগত পর্যটকদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

পুরীতে পর্যটকদের সুষ্ঠু অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ উভয়েই পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তবে পর্যটকদেরও নিয়মাবলী মেনে চলা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে বহিরাগত পর্যটকদের ক্ষেত্রে ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাপ সামাল দিতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ আশা করছেন, পর্যটকদের জন্য আরও কঠোর নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এমন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

পুরীর মতো তীর্থস্থানকে বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে সম্প্রীতির মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলাই সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত, যেখানে মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে এক সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক যাত্রা।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *