সীমার গল্প
বিবাহবিচ্ছেদের পর আবার পুরনো প্রেমে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বেশ চিত্তাকর্ষক। সোহেল খানের প্রাক্তন স্ত্রী সীমা সাজদেহ সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ২৪ বছরের সংসার জীবনের পর তিনি সোহেলের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে অনেক কিছু শিখেছেন এবং তার পর নিজের জীবনে নতুন করে প্রেমের রং লাগানোর চেষ্টা করছেন।
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফ্যাবুলাস লাইভ্স ভার্সেস বলিউড ওয়াইভ্স’-এ তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। সীমা জানান, সোহেলের সঙ্গে সম্পর্কের আগে তার জীবনেও একটি প্রেমের কাহিনী ছিল, যার নাম বিক্রম আহুজা। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সোহেলের সঙ্গে আলাপ হওয়ার আগে তিনি বিক্রমের সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।

বিক্রমের সঙ্গে সীমার সম্পর্ক কিছুটা জটিল ছিল। তারা একসঙ্গে বাগদানও করেছিলেন, তবে পরে তা টেকেনি। সীমা জানান, “বিক্রমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের শেষ হয়েছিল।” বিচ্ছেদের পর তিনি সোহেলের প্রেমে পড়েছিলেন এবং ১৯৯৮ সালে সোহেলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। এই বিয়ের পর দুই পুত্রসন্তানের মা হন তিনি।
দুঃখজনক হলেও, সংসারে ভাঙন ধরা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর, সীমা পোশাক পরিকল্পক হিসেবে নতুন পরিচিতি গড়ে তুলতে শুরু করেন এবং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি তেমন কিছু প্রকাশ্যে আনেননি।

সম্প্রতি সীমা প্রেমের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানান, তার বর্তমান প্রেমিক বিক্রম আহুজা অভিনয়ের জগতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। তবে তার পরিবারের সঙ্গে বলিপাড়ার নামকরা পরিবারের যোগ রয়েছে। বিক্রম হলেন শিল্পপতি দেবেন্দ্র আহুজার পুত্র, যিনি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
বলিপাড়ার সূত্রে জানা যায়, দেবেন্দ্র আহুজার কন্যা তানিয়া এবং ববি দেওলের মধ্যে গাঁটছড়া বাঁধা রয়েছে। এর ফলে, সীমার প্রেমিক বিক্রম, ববির শ্যালকও। এর ফলে, তিনি দেওল পরিবারের অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হন এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।

সীমা তার পুরনো প্রেমে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। “বিচ্ছেদের পর আমি থেমে থাকিনি। আমি আবার নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছি,” বলেছেন তিনি। তবে সীমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি বিক্রমের সঙ্গে কোনও ছবি প্রকাশ্যে আনেননি।

এখন দেখা যায়, প্রেমের এই নতুন অধ্যায় সীমার জীবনে নতুন সুর এনে দিয়েছে। তার পুরনো প্রেমের সম্পর্ক যে আবার নতুন রঙে আবির্ভূত হয়েছে, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। প্রেমের এই জাগরণ তাকে এক নতুন জীবনের দিকে ধাবিত করছে এবং তিনি আবারও প্রেমের স্বাদ নিতে প্রস্তুত।
সীমার এই যাত্রা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনে নানা ঘটনার পরেও নতুন পথ ও সম্ভাবনার খোঁজে চলা সম্ভব। হয়তো প্রেম ও সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।