এই ৫ ভুল করলে ভুঁড়ি কমবে না একেবারেই
দুর্গাপুজো আসতে আর দেরি নেই। তাই এখনই ঝড়ের গতিতে মেদ ঝরাতে চাইছেন অনেকে। সেই লক্ষ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কিটো ডায়েট। তারকাদের দেখে বহু মানুষ এই ডায়েট শুরু করেছেন এবং কেউ কেউ এর সুফলও পাচ্ছেন। তবে অন্যদিকে এমনও অনেকেই আছেন যাঁরা বারবার হতাশ হচ্ছেন। কেউ বলছেন, ওজন একেবারেই কমছে না, আবার কারও ক্ষেত্রে বেড়েও যাচ্ছে। আসল সমস্যাটা কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিটো ডায়েটের নিয়মগুলি যথাযথভাবে না মানলেই এমন সমস্যা দেখা দেয়।
কিটো ডায়েটের মূল কৌশল হল শরীরে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে ফ্যাট গ্রহণ বাড়ানো। এতে দেহে ‘কিটোসিস’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে শরীর কার্বোহাইড্রেটের বদলে জমে থাকা ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে। ফলে দ্রুত মেদ ঝরে। কিন্তু যেহেতু এই ডায়েটে উপাদানের ক্ষুদ্র পরিমাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সামান্য অসতর্কতাতেও গন্ডগোল বাধতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বেশি প্রোটিন খেলে কিটোসিস থেমে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ বিষয় মেনে চললে কিটো ডায়েট থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।
যে ভুলগুলি এড়াতে হবে
১. এক দিনে কার্বোহাইড্রেট কমানো:
অনেকেই শুরুতেই হঠাৎ করে কার্বোহাইড্রেট বাদ দেন। কিন্তু ভাত-নির্ভর বাঙালিদের ক্ষেত্রে এটি শরীরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই ধীরে ধীরে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে ২০ গ্রামের আশেপাশে নামানোই শ্রেয়। এতে শরীর বদলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সময় পায়।
২. জল কম খাওয়া:
কিটো ডায়েটে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। কার্বোহাইড্রেট হঠাৎ কমে গেলে শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া অপরিহার্য।
৩. সব্জি পুরো বাদ দেওয়া:
প্রায় সব সব্জিতেই কিছুটা কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে অনেকে সম্পূর্ণ সব্জি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে ফাইবারের ঘাটতি হয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে। তাই টম্যাটো, ব্রকোলি, শশার মতো সব্জি সীমিত পরিমাণে রাখা দরকার।
৪. পর্যাপ্ত নুন না খাওয়া:
কার্বোহাইড্রেট কমে গেলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের সঙ্গে পরিমাণ মতো নুন খাওয়া জরুরি।
৫. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বাদ দেওয়া:
অনেকে ভেবে নেন শুধু তেল-মাখানো খাবার খেলেই চলবে। কিন্তু আসলে প্রয়োজন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফ্যাট, যা সামুদ্রিক মাছ বা বাদামে পাওয়া যায়। এগুলি শরীরের জন্য উপকারী এবং কিটো ডায়েটকে কার্যকর করে তোলে।
সতর্কবার্তা
যে কোনও ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু নেটমাধ্যম বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর তথ্যের উপর ভরসা করে ডায়েট করলে ওজন কমতে পারে বটে, কিন্তু শরীরের ভেতরে বড় ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা বোঝা যায় না। তাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই কিটো ডায়েট শুরু করা নিরাপদ।
অর্থাৎ, পুজোর আগে স্লিম হতে চাইলে কিটো ডায়েট কার্যকর হতে পারে, তবে এই ৫ ভুল এড়িয়ে চলা একান্ত জরুরি। নইলে ভুঁড়ি যেমন থাকবে, তেমনই শরীরও হারাবে ভারসাম্য।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ