পুজোর আগে এক মাসে ওজন কমানো কি নিরাপদ?
দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধু এক উৎসব নয়, এটি সারা বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পাঁচটি দিন। এই সময়ে সেরা পোশাকে নিজেকে সেরা ভাবে উপস্থাপন করার ইচ্ছা সবার মধ্যেই থাকে। তাই পুজোর আগে শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়, বিশেষত তাঁদের মধ্যে যাঁরা সারা বছর জিমে পা রাখেন না। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শহরের জিমগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে ‘পরিযায়ী’ ফিটনেসপ্রেমীদের। লক্ষ্য একটাই—পুজোর আগে ওজন কমিয়ে ফিট হওয়া। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে এই পরিবর্তন কতটা সম্ভব এবং তা কি আদৌ নিরাপদ?
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার মাধ্যমে মাসে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব হলেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ওজন কমানোর হার ব্যক্তির বিএমআই, মেটাবলিজ়ম, খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ধরন, ও শারীরিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। ফিটনেস প্রশিক্ষক অনুপ আচার্যের কথায়, “শরীরের ১ কেজি ফ্যাট কমাতে প্রায় ৭,৭০০ ক্যালোরি ঝরাতে হয়। তাই হঠাৎ করে অতিরিক্ত শরীরচর্চা শুরু করা শরীরের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।” তিনি আরও জানান, পুরুষদের দৈনিক গড়ে ১,৫০০ কিলোক্যালোরি এবং মহিলাদের প্রায় ১,২০০ কিলোক্যালোরি প্রয়োজন হয়। সঠিক ডায়েটের সঙ্গে পরিকল্পিত ব্যায়ামের সমন্বয়েই ভাল ফল পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসক একে পালও সতর্ক করে বলেন, “হঠাৎ করে অতিরিক্ত ব্যায়াম শুরু করলে শরীরে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। শরীরকে সময় দিতে হয় পরিবেশ ও ব্যায়ামের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং ধাপে ধাপে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ফল পাওয়ার তাগিদে ভুল ব্যায়াম, অতিরিক্ত ওজন তোলা বা ক্র্যাশ ডায়েটে যাওয়া বিপজ্জনক। তাই জিমে যোগ দেওয়ার আগে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা এবং শরীরের সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করা জরুরি।
দুর্গাপুজোর আগে ফিট হতে চাওয়াটা স্বাভাবিক, তবে সুস্থ থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদী লাইফস্টাইল মেনে চলাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মাত্র এক মাসে নাটকীয় পরিবর্তনের আশা না করে, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মন দেওয়াই নিরাপদ ও টেকসই সমাধান।
দক্ষিণী স্বাদের অনন্য ভর্তা: এল্লু থুভৈয়াল, গরম ভাতে ঘি মেখে খেতে একেবারে স্বর্গীয়