পিরিয়ড চলাকালীন শুটিং?
ক্যামেরা চলতে থাকলে থেমে থাকে না কাজ। এমনই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হন বাংলা টেলিভিশনের বহু জনপ্রিয় অভিনেত্রী, যখন ব্যক্তিগত কষ্ট বা শারীরিক অস্বস্তিকেও পাশ কাটিয়ে যেতে হয়। পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবকালীন সময়ে শুটিং সেটে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা, নাচ, অ্যাকশন, আবেগঘন সংলাপ—সবই চালিয়ে যেতে হয় একটানা। কিন্তু কীভাবে মানিয়ে নেন তাঁরা?
অস্বস্তি লুকিয়ে সামনে এগিয়ে চলা
অভিনেত্রী তৃণা সাহা বলছেন, “পিরিয়ডের প্রথম দিনটাই সবচেয়ে বেশি কষ্টের হয়। সেই দিনটা কাটানো সত্যিই খুব কঠিন। কিন্তু কাজ তো থামে না। অসুস্থ বোধ করলেও চোখে-মুখে কিছুই প্রকাশ পায় না, কারণ ক্যামেরার সামনে আমায় স্বাভাবিকই লাগতে হবে।”
তিনি আরও জানান, মাঝে মাঝে এতটাই ব্যথা বাড়ে যে চুপচাপ চেয়ারে বসে থাকতে হয় কিছুক্ষণ। তখন কো-অ্যাক্টর বা ইউনিটের কারও সহানুভূতি বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যথা, ক্লান্তি—তবু মেকআপ ঠিকঠাক
ঋতুস্রাবের সময় শরীর এবং মন দুটোই বিপর্যস্ত থাকে। কিন্তু সে সময়ও মেকআপ রুমে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাজগোজ করতে হয়। অভিনেত্রী অনন্যা গুহ বলেন, “আমি পিরিয়ডের সময় খুব ব্যথা পাই। কিন্তু তবু শুটিং থাকে। মাঝে মাঝে পেট ব্যথায় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়, তখন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই বা সহশিল্পীরা একটু সময় দেন।”
তাঁর মতে, এমন সময়ে ইউনিটের মেয়েরা বড় ভরসা হয়ে ওঠেন—পিছন থেকে এসে সাপোর্ট দেন, প্রয়োজনে একটু জলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে দেন, কুশন এনে দেন। এই ছোট ছোট দিকেই লুকিয়ে থাকে বড় সহানুভূতি।
সহানুভূতির প্রয়োজন আরও বেশি
অনেক অভিনেত্রীর মতেই, টেলিভিশনের শুটিং শিডিউল এতটাই টাইট যে ছুটি নেওয়ার উপায় প্রায় থাকে না। ফলে শরীর খারাপ থাকলেও কাজ চালিয়ে যেতেই হয়। ঋতুস্রাবজনিত অসুস্থতা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনও ট্যাবু বা চুপ করে থাকার প্রবণতা আছে। এই পেশার মেয়েরা তাই অনেক সময় মনের কথাও খুলে বলার সুযোগ পান না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু প্রোডাকশন হাউজ একটু বেশি সহানুভূতিশীল হয়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত ব্যথা পেলে বিকল্প দৃশ্য শুট করে নেন, বা অন্য শিডিউলে স্থানান্তর করেন। তবে সংখ্যাটা এখনও খুবই কম।
আত্মশক্তিতেই ভরসা
বেশিরভাগ সময়েই অভিনেত্রীদের ভরসা রাখতে হয় নিজেদের মানসিক জোরের উপর। শরীর যখন বলে ‘না’, তখন মন বলে ‘পারতে হবে’। কারণ, তাঁদের পরিশ্রমের উপর নির্ভর করছে বহু মানুষের পেশা, একটি গোটা ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ।
তবু কোথাও যেন প্রশ্ন থেকে যায়—কেন এখনও কর্মক্ষেত্রে পিরিয়ড নিয়ে এতটাই নীরবতা? কেন নেই কোনও গঠনমূলক নিয়ম বা ছুটি? যতদিন না এই প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যায়, ততদিন বাংলার পর্দার নায়িকারা তাঁদের কষ্টের কথা বুকের ভিতরেই চেপে রেখে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির