পিকের পারিশ্রমিক: ভোটের কৌশলে তৃণমূলের সাহায্য

পিকের পারিশ্রমিক প্রশান্ত কিশোর, যিনি ভোটকুশলী হিসেবে পরিচিত, তাঁর গ্রাহক রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে কত টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এবার তিনি নিজের মুখেই জানালেন, প্রতি নির্বাচনে…

November 2, 2024
1 min read

পিকের পারিশ্রমিক

প্রশান্ত কিশোর, যিনি ভোটকুশলী হিসেবে পরিচিত, তাঁর গ্রাহক রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে কত টাকা পারিশ্রমিক নিতেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এবার তিনি নিজের মুখেই জানালেন, প্রতি নির্বাচনে তাঁর পারিশ্রমিক অন্তত ১০০ কোটি টাকা। বিহারের বেলাগঞ্জে তাঁর গড়া রাজনৈতিক দল ‘জন সুরাজ পার্টি’র এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এখন অন্তত ১০টি রাজ্যের সরকার আমার পরামর্শের জোরে গঠিত হয়েছে। একটি নির্বাচনে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমি ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি নিয়েছি।” এর মানে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেও একই পরিমাণ টাকা দিতে হয়েছিল।

গত এক দশকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য প্রচারণার কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করেছেন পিকে। বিহারে বিজেপি-জেডিইউ জোট, পঞ্জাবে কংগ্রেস, অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকের মতো দলের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা রয়েছে। ২০২১ সালে তৃণমূলের হয়ে ভোটের কৌশল রচনা করার সময় প্রশান্তের মন্তব্য ছিল, “যদি ভোটবাক্সে বিজেপি তিন অঙ্কের সংখ্যা পেরোয়, তবে আমি ভোটকুশলীর পেশা ছেড়ে দেব।” এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে হাস্যরসও দেখা গিয়েছিল, কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, প্রশান্তের পূর্বাভাস সত্যি হয়েছিল।

তবে চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে পিকের পূর্বাভাস সফল হয়নি। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এক নম্বর দল হতে চলেছে।” কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বিজেপি তৃণমূলের অর্ধেক আসনও জিততে পারেনি। এর পর, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর পিকে পরামর্শদাতা হিসেবে সরে দাঁড়ান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আইপ্যাকে’র সঙ্গে যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাঁর সংস্থা এখনও তৃণমূলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছে।

গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে পিকের সংস্থার ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, প্রশান্ত কিশোরের প্রভাব রাজনীতিতে কেমনভাবে কাজ করে তা এখন স্পষ্ট। তিনি যেমন নির্বাচনী কৌশল তৈরি করেছেন, তেমনই রাজনৈতিক দলের মধ্যে তাঁর নাম হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয়।

প্রশান্ত কিশোরের কার্যকলাপ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলছে। তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হলে, রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের ভূমিকা, পারিশ্রমিক এবং নির্বাচনী কৌশলের নেপথ্যে কাজ করা প্রভাবশালীদের বিষয়ে আলোচনা বেড়ে যায়। আর সেই সঙ্গে ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের মধ্যে পরামর্শের গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়।

ভোটের প্রস্তুতির এই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পিকের কার্যক্রম রাজনীতির অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে, পিকের পারিশ্রমিক ও তাঁর পরামর্শের ওপর নজরদারি রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। আগামীতে, কিভাবে পিক এবং তাঁর সংস্থাগুলো রাজনীতিতে আরও ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আগ্রহী মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা বাড়ছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *