পাহাড়ের গা ঘেঁষে ৩০০ ফুট মাটির নিচে!
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলছে তীব্র সামরিক সংঘাত। একে অপরকে নিশানা করে হামলার পর হামলা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ইরানের সবচেয়ে গোপন ও সুরক্ষিত পরমাণুকেন্দ্র— ফোরডো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন এত বার চেষ্টা করেও ইজরায়েল এই কেন্দ্রে আঘাত হানতে পারছে না?
কোথায় এবং কীভাবে তৈরি ফোরডো?
ফোরডো অবস্থিত ইরানের কোম শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, একটি পর্বতের নিচে। তেহরান থেকে যার দূরত্ব ১৬০ কিলোমিটার। ২০০০ সালের গোড়ায় ‘আমাদ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মাণ শুরু হয়েছিল এই কেন্দ্রের, যা ছিল ইরানের গোপন পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ। ২০০৯ সালে পশ্চিমি গোয়েন্দারা এই কেন্দ্রের সন্ধান পায় এবং পরে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র কাছে তা স্বীকার করে ইরান।
কেন এত সুরক্ষিত ফোরডো?
ফোরডো নির্মিত হয়েছে শক্তপোক্ত পাহাড়ি অঞ্চলে। এটি ভূগর্ভের অন্তত ৮০ থেকে ৩০০ ফুট গভীরে অবস্থিত, যা সহজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সাধারণ বা উন্নত মানের অস্ত্র দিয়ে এর কাঠামো ভাঙা প্রায় অসম্ভব। উপরন্তু, কেন্দ্রটি রাশিয়ার এস-৩০০ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ছাতার নিচে রক্ষিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্রকে গুঁড়িয়ে দিতে গেলে এমন অস্ত্র চাই যা ২০০ ফুট পাথরের স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। এমন ‘বাঙ্কার বাস্টার’ অস্ত্র কেবল আমেরিকার হাতেই রয়েছে— ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP) নামের একটি সুপার বোমা, যার ওজন প্রায় ১৪ টন। এই বোমাই একমাত্র ফোরডোর মতো বাঙ্কার ধ্বংসে সক্ষম বলে মনে করা হয়।
ফোরডো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পরে ফোরডোকে ব্যবহার করা হতো বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে। কিন্তু ২০১৮ সালে আমেরিকা সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে, ইরান আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। ২০২৫ সালের হিসেব অনুযায়ী, ফোরডোতে ৬০% পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হচ্ছে, যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০% সীমার খুব কাছাকাছি।
প্রতি তিন মাসে এখানে তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৬৬ কেজি ইউরেনিয়াম— যা যথেষ্ট চারটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য। তাই ফোরডো এখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মেরুদণ্ড।
ইজরায়েলের কী পরিকল্পনা?
ইজরায়েল মনে করছে, ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ করতে হলে ফোরডো ধ্বংস করতেই হবে। তাই তাদের লক্ষ্য আমেরিকার থেকে MOP বা GBU-57A/B বোমা পাওয়ার চেষ্টা। এটি মার্কিন বায়ুসেনার সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক অস্ত্র। তেহরান ধ্বংস করতে হলে এই বোমাই একমাত্র ভরসা।
ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের এই আবহে, এখন নজর থাকবে আমেরিকা সত্যিই ইজরায়েলকে এই মহাস্ত্র দেয় কি না। কারণ ফোরডোর পতন মানে, ইরানের পরমাণু পরিকল্পনার মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া।
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি