পার্ক স্ট্রিটের আলোয় মনখানা আটকে গেল!
বড়দিন এলেই কলকাতা যেন নিজেকে নতুন করে সাজায়। পার্ক স্ট্রিটের আলো, গির্জার ঘণ্টাধ্বনি, মধ্যরাতে রাস্তায় মানুষের ঢল—এই চেনা ছবিগুলোই শহরের উৎসবের পরিচয়। যিশুর জন্মদিন উপলক্ষে যখন কলকাতা আনন্দে মাতোয়ারা, তখন দূরে বসে এই শহরটাকেই যেন মন ভরে মিস করছেন অমিতাভ বচ্চন।
শহরের বড়দিনের ছবি দেখে তাঁর মনে ফিরে এসেছে নিজের অতীত। সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বরাবরের মতো নিজের ব্লগেই অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন অমিতাভ। সেখানে শুধু শুভেচ্ছা নয়, কলকাতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতির ঝাঁপিও খুলে দিয়েছেন তিনি।
অমিতাভ লিখেছেন, বড়দিনের শুভেচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মন চলে যাচ্ছে কলকাতায়—২৪ ও ২৫ ডিসেম্বরের সেই মধ্যরাতের ভিড়, রাজপথে মানুষের উচ্ছ্বাস, গির্জায় প্রার্থনার দৃশ্য। তাঁর কথায়, এই সব ভাবতেই নস্ট্যালজিয়ায় ভেসে যাচ্ছেন তিনি। কারণ, সিনেমার জগতে পা রাখার আগে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি কাটিয়েছেন এই শহরেই।
কলকাতা শুধু তাঁর কর্মজীবনের একটি অধ্যায় নয়, বরং আত্মপরিচয়ের অংশ। ১৯৬৮ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতায় ‘ব্ল্যাকার্স’ সংস্থায় তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন ছিল। মাসিক বেতন—১ হাজার ৬৪০ টাকা। সেই তরুণ অমিতাভ, যিনি তখনও সুপারস্টার নন, স্বপ্ন দেখতেন বড় কিছু করার। সেই স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছিল কলকাতার মাটিতেই।
শুধু কাজ নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এই শহরের গুরুত্ব কম নয়। শোনা যায়, জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে তাঁর প্রেমের শুরুও কলকাতার আবহেই। তাই কলকাতা আজও তাঁর কাছে শুধুই একটি শহর নয়—স্মৃতি, সম্পর্ক আর শিকড়ের জায়গা।
এই শহরের মানুষও তাঁকে আলাদা চোখে দেখে। এখানে তিনি আজও ‘জামাইবাবু’। সেই টানেই বারবার ফিরে এসেছেন কলকাতায়—কখনও ছবির শুটিংয়ে, কখনও উৎসবে। সস্ত্রীক কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর শেষ সফরের কথাও অনেকের মনে আছে। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু বছর, কিন্তু শহরের অপেক্ষা শেষ হয়নি।
এ বছর বড়দিনে তিনি আরব সাগরের ধারে দাঁড়িয়ে যখন কলকাতার কথা লিখছেন, তখন পার্ক স্ট্রিটে আলো ঝলমল করছে, গির্জায় ভিড় বাড়ছে, ক্যারল গানে মুখর শহর। দূরত্ব সত্ত্বেও স্মৃতির টানে যেন অমিতাভ এখনও এই শহরের সঙ্গেই হাঁটছেন।
কলকাতা যেমন তাঁকে ভুলে যায়নি, তেমনই তিনিও কলকাতাকে ছেড়ে যেতে পারেননি মন থেকে। বড়দিনের আলোয়, উৎসবের কোলাহলে—এই শহর আর তার স্মৃতি আজও অমিতাভ বচ্চনের মনে ঠিক ততটাই জীবন্ত।