পাথরের ফাটলের ভেতর দিয়ে সিঁড়ি উঠে গিয়েছে যেখানে!
বেশিরভাগ সময়েই ট্রেন সফর মানে শুধুই এক গন্তব্য থেকে আরেক গন্তব্যে পৌঁছনো নয়। মাঝেমধ্যে চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা এক টুকরো পাহাড়, একফালি বন বা কোনও স্টেশনের নাম মনে দাগ কেটে যায়। এমনই এক জায়গা বিহারের গয়া জেলার কাছের গুরপা পাহাড়—যার রহস্যময় সৌন্দর্য অনেককেই চুম্বকের মতো টানে।
দূর থেকে এটিকে টিলা বলেই মনে হবে, তবে মাথায় চোখে পড়বে সোনালি রঙের বৌদ্ধ স্তূপ বা চোর্তেন। এই দৃশ্যটা বিশেষ করে গয়া যাওয়ার পথে ট্রেনে চেপে গেলে চোখে পড়েই।
গুরপা স্টেশন থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাহাড়ের আসল নাম গুরুপাদগিরি বা কুক্কুটপদগিরি। পাহাড়টিকে দেখতে অনেকটা মুরগির পায়ের মতো বলেই এই নাম। স্থানীয়রা অবশ্য একে ভালবেসে ‘গুরপা পাহাড়’ বলেই ডাকেন।
চলতি ১৫ অগস্টে যদি কোনও লম্বা ছুটি পান, তবে গুরপা পাহাড় ঘুরে আসার জন্য সেটা হতে পারে এক আদর্শ সময়। বর্ষার সবুজে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য তখন থাকে অনবদ্য। প্রকৃতি প্রেমী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য গন্তব্য।
পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত আপনি গাড়িতে বা হেঁটে পৌঁছে যেতে পারেন। সেখান থেকেই শুরু হয় সিঁড়ির পথ। লোকজন বলে, প্রায় ১৮০০ ধাপ পেরিয়ে উঠতে হয় চূড়ায়। একটানা উঠতে কষ্ট হতে পারে ঠিকই, তবে পথের প্রতিটি বাঁকে প্রকৃতি আপনাকে থামিয়ে দেবে।
পাহাড়ের নাম ও মাহাত্ম্য কিন্তু এখানেই শেষ নয়। লোককথা অনুযায়ী, এই পাহাড়েই মহাযশস্বী বুদ্ধের শিষ্য মহাকশ্যপ তাঁর নির্বাণ লাভ করেন। সেই কারণেই এই জায়গাটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থস্থান। তবে শুধু বৌদ্ধ ধর্ম নয়, হিন্দু ধর্মের সঙ্গেও এই স্থানের গভীর সংযোগ রয়েছে। শ্রাবণ মাসে এখানে বড় মেলা বসে, বহু পুণ্যার্থী আসেন পূজা দিতে।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশটি হলো, পাহাড়ের একদম ওপরে পৌঁছতে হলে আপনাকে যেতে হবে এক পাথরের সরু ফাটলের ভেতর দিয়ে। জায়গাটা অনেকটা গুহার মতো, যেখানে শরীর বেঁকিয়ে সামান্য ভয় পেয়ে কিন্তু অনেকটাই রোমাঞ্চে ভর করেই উঠতে হয়। যাঁদের ক্লস্ট্রোফোবিয়া রয়েছে, তাঁদের জন্য একটু কঠিন হতে পারে এই অংশ। তবে একবার ফাটল পেরোলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে ঠান্ডা হাওয়া, চূড়া থেকে চোখ জুড়ানো দৃশ্য আর এক অন্যরকম নীরবতা।
পাহাড়ের মাথায় রয়েছে ধ্যানস্থ মহাকশ্যপের মূর্তি, সোনালি চোর্তেন ও দুইটি ছোট মন্দির। রঙিন প্রার্থনার পতাকায় ঢেকে থাকা এই জায়গাটি যেন এক আশ্চর্য শান্তির ঠিকানা।
বুদ্ধগয়াও এখান থেকে খুব দূরে নয়। রাজৌলি হয়ে গেলে মাত্র ৬০ কিমি। ফলে এক সফরেই দুই আধ্যাত্মিক স্থান দেখে নেওয়া যায়।
গুরপা পাহাড় শুধু এক জায়গার নাম নয়, এটি একটি অনুভব। প্রকৃতি, ইতিহাস, বিশ্বাস আর নির্জনতার এক অনবদ্য সংমিশ্রণ—যেটা একবার নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?