পাতে সামান্য বদলেই নিয়ন্ত্রণে কোলেস্টেরল
শীত এলেই ভাজাভুজি, মিষ্টি আর ভারী খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে কোলেস্টেরলের মাত্রাও। আগে যেখানে বয়স বাড়লে কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দিত, এখন সেখানে অল্প বয়স থেকেই এই ঝুঁকি হানা দিচ্ছে বহু মানুষের জীবনে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন— কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা ধমনীর মারাত্মক সমস্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই শুধু ওষুধের উপর ভরসা করলে চলবে না, খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনতেই হবে।
কোলেস্টেরল মূলত দু’ধরনের— ভাল কোলেস্টেরল বা এইচডিএল এবং খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল। সমস্যা তৈরি করে এই খারাপ কোলেস্টেরলই। এলডিএল বেড়ে গেলে ধমনীর ভিতরে প্ল্যাক জমতে শুরু করে, রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং হৃদ্যন্ত্রে অক্সিজেন পৌঁছোনোর ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলেই ধীরে ধীরে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সুখের কথা হল, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কয়েকটি উপকারী উপাদান রাখলে এই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. আমলকি
আমলকি আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিবিদ্যা— দু’ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ। নিয়মিত আমলকি খেলে রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ধমনীর দেওয়ালে জমে থাকা প্ল্যাক গলাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়। হার্টের রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে আমলকি বিশেষ ভূমিকা নেয়।
২. গ্রিন টি
গ্রিন টি এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ডায়েটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এতে থাকা পলিফেনল খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। দিনে এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করলে ধমনীর প্রদাহ কমে এবং হার্টের স্বাস্থ্য কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকে।
৩. লেবু ও অন্যান্য সাইট্রাস ফল
লেবু, কমলা, মাল্টা বা জাম্বুরার মতো সাইট্রাস ফল ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। এই উপাদানগুলি শরীরের ভেতরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। নিয়মিত সাইট্রাস ফল খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
৪. পালংশাক ও সবুজ শাকসবজি
পালংশাক শুধু রক্তাল্পতা দূর করতেই নয়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ও ফাইবার শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কমায়। নিয়মিত সবুজ শাকসবজি খেলে হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ কমে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
৫. আখরোট
আখরোটে রয়েছে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের জন্য উপকারী। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখে। অল্প পরিমাণে নিয়মিত আখরোট খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা কোলেস্টেরল কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ মানেই কঠিন ডায়েট নয়। প্রতিদিনের পাতে সামান্য সচেতনতা আর এই পাঁচটি খাবার যোগ করলেই ধমনীর স্বাস্থ্য অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। ওষুধের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের আসল চাবিকাঠি।