পাক বায়ুসেনা সম্পর্কে একটি তথ্য ভুল জানতেন গোয়েন্দারা, সিঁদুর অভিযানে তাই যুদ্ধবিমান ধ্বংস ভারতের? দাবি রিপোর্টে

পাক বায়ুসেনা সম্পর্কে একটি তথ্য ভুল জানতেন গোয়েন্দারা! ২০২৫ সালের ৬ মে মধ্যরাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের একটি গোপন অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত। অভিযানে ভারত সাফল্যের…

August 3, 2025
1 min read

পাক বায়ুসেনা সম্পর্কে একটি তথ্য ভুল জানতেন গোয়েন্দারা!

২০২৫ সালের ৬ মে মধ্যরাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামের একটি গোপন অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত। অভিযানে ভারত সাফল্যের দাবি করলেও, ওই রাতে অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় পাকিস্তানের হামলায়—এ কথা ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। তবে এই বিপর্যয়ের পেছনের কারণ নিয়ে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের যন্ত্র বা যুদ্ধবিমান নয়, গোয়েন্দা বিভাগের মূল্যায়নে ভুলই ছিল ভারতের বড় ক্ষতির কারণ। পাকিস্তানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে গোয়েন্দারা যে তথ্য দিয়েছেন, তা বাস্তবের থেকে অনেকটাই দুর্বল ছিল। এই ভুল মূল্যায়নের জেরেই ভারতের একটি বা একাধিক যুদ্ধবিমান শত্রুপক্ষের নিশানা হয়ে পড়ে।

রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে দুই ভারতীয় ও তিন পাকিস্তানি আধিকারিকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। তাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান চিনে তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান জে-১০সি এবং তার সঙ্গী পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ভারতের গোয়েন্দারা ধারণা করেছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ভারতীয় পাইলটরা এগিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। ফলে ভারতীয় বিমানগুলি নিরাপদ দূরত্বে ছিল না—এটাই হয়ে দাঁড়ায় বড় ভুল।

৬ মে রাতের ঘটনায় আরও জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধান জাহির সিধু আগে থেকেই অভিযানের আশঙ্কায় দফতরেই থাকতেন। সেই রাতে সতর্কতা সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি হামলার নির্দেশ দেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে আকাশযুদ্ধ। রয়টার্সের দাবি, এই সংঘাতে দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১১০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। পাকিস্তান একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সাফল্য দাবি করলেও ভারত সরকার জানিয়েছিল, মাত্র ২৩ মিনিটে পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ফেরা গিয়েছিল।

এই ঘটনার পর রাফাল যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইন্দোনেশিয়ার মতো কিছু দেশ চিনের জে-১০ কেনার কথা ভাবছে। তবে রয়টার্সের রিপোর্টে রাফালের কোনও কারিগরি ত্রুটির কথা মানা হয়নি। বরং গোয়েন্দা তথ্যের ভুলকেই দায়ী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা বা বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এখনও পর্যন্ত এই রিপোর্টের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সেনাপ্রধানও কেবল ‘যুদ্ধবিমান ধ্বংস’ হওয়ার কথা বলেছেন, কিন্তু নির্দিষ্ট করে ‘রাফাল’ বলেই উল্লেখ করেননি।

এই অভিযানের জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন ধরে সীমান্তে উত্তেজনা চলে। শেষ পর্যন্ত ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। তবুও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও অনেকটাই তলানিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে শুধু সামরিক নয়, গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণের দিকটিও নতুন করে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

চুল পড়া রোধে শরবতের জাদু: খেতেও হবে, বানাতেও হবে ঠিকমতো!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *