পাক আকাশ বন্ধ!
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার রেশ না কাটতেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার জেরে এবার নতুন সমস্যা বিমানযাত্রীদের জন্য। পাকিস্তান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে—ভারতীয় মালিকানাধীন বা ভারতে নিয়ন্ত্রিত কোনও বিমান আর তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ, কার্যত ভারতের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলির উপর। কারণ, দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের শহরগুলি থেকে পশ্চিমের দেশগুলির দিকে উড়ান চালাতে হলে পাকিস্তানের আকাশ দিয়েই যাওয়া সবচেয়ে সোজা ও কার্যকর পথ।
বিকল্প পথ কী?
পাক আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন উত্তর ভারতের উড়ানগুলিকে ঘুরে যেতে হবে আরব সাগরের উপর দিয়ে। এটি প্রধান বিকল্প পথ হলেও, এ ছাড়াও কিছু পথ খোলা থাকবে, যেমন ওমান, ইরান বা আফগানিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার।
তবে ঘুরপথ মানেই বাড়তি সময়। সিনিয়র পাইলটদের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশের উড়ানগুলি এখন কমপক্ষে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা বেশি সময় নেবে। এর সঙ্গে বাড়বে জ্বালানির ব্যবহার, ফলে খরচও বেড়ে যাবে।
বিমান ভাড়ায় প্রভাব কতটা?
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘুরপথের কারণে বিমান সংস্থাগুলিকে যে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় করতে হবে, তার জেরে যাত্রীদের ভাড়াও ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে এই বৃদ্ধি ২০ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে।
| প্রভাবের ধরন | পরিবর্তন |
|---|---|
| যাত্রার সময় | +২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা |
| জ্বালানি ব্যয় | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
| ভাড়া বৃদ্ধি | প্রাথমিকভাবে ৮-১২%, ভবিষ্যতে আরও |
| আয় হ্রাসের আশঙ্কা | যাত্রী সংখ্যা ও কার্গো কমালে সম্ভব |
আর্থিক চ্যালেঞ্জেও পড়তে পারে সংস্থাগুলি
দূরত্ব ও সময় বৃদ্ধির ফলে বিমানগুলিকে অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করতে হবে। সেই কারণে যাত্রী বা মালপত্রের পরিমাণ কমাতে হতে পারে। এতে বিমান সংস্থাগুলির উপার্জন হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বেশি খরচ, অন্যদিকে আয় কমে গেলে আর্থিক চাপ বাড়বে নিশ্চিতভাবেই।
অতীতেও এমন ঘটেছে
এটাই প্রথমবার নয়। ২০১৯ সালে ভারতের বালাকোটে জবাবি হামলার পরেও পাকিস্তান কয়েক মাসের জন্য ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তখনও বিমান সংস্থাগুলিকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
উপসংহার
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ। কিন্তু এর ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ বিমানযাত্রী ও ভারতের বিমান সংস্থাগুলিকে। এখন দেখার, কূটনৈতিক স্তরে দুই দেশের আলোচনা কী মোড় নেয় এবং পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। আপাতত কিন্তু যাত্রীদের প্রস্তুত থাকতে হবে অতিরিক্ত সময় ও খরচের জন্য।
পহেলগাঁও হামলা: বলিউডের তারকাদের ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র বার্তা