পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা—‘ভারতের ড্রোন আটকাইনি, কারণ ছিল বিশেষ’

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতীয় ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে। সেই ড্রোনগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে নামানো হয়নি কেন? এই প্রশ্নের জবাব শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় আইনসভা, ন্যাশনাল…

May 9, 2025
1 min read

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতীয় ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে। সেই ড্রোনগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে নামানো হয়নি কেন? এই প্রশ্নের জবাব শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় আইনসভা, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে দিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই ভারতের ড্রোনগুলি প্রথমে আটকানো হয়নি। কারণ, এর পিছনে ভারতের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল, আর সেটাই তারা ব্যর্থ করতে চেয়েছিল।

আসিফ জানান, ভারত এই ড্রোনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করতে চেয়েছিল। যদি পাকিস্তান সেগুলিকে সঙ্গে সঙ্গেই গুলি করে নামাত, তবে ভারতের কাছে স্পষ্ট হয়ে যেত পাকিস্তানের সেনা অবস্থান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোথায় কতটা সক্রিয়। সেই তথ্য পাচার রোধ করতেই প্রথমে ড্রোনগুলিকে কিছুটা এগোতে দেওয়া হয়। যখন ড্রোনগুলি নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়, তখন সেগুলিকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশবাসীকে আমরা আশ্বস্ত করছি—বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা ২০০ শতাংশ প্রস্তুত।”

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের পাঠানো ড্রোনের কার্যকলাপ স্পষ্টভাবেই গোয়েন্দা নজরদারির উদ্দেশ্যে ছিল। যদিও ভারতীয় পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানও ভারতীয় সীমান্ত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনা। তাদের মতে, ভারতের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের এই হামলাকে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেয়। আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় সমস্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র।

এই ঘটনার পেছনে আরেকটি বড় প্রেক্ষাপটও রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। ভারত সোজাসুজি পাকিস্তানকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে। ইসলামাবাদ যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে, তবু ভারত একাধিক পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এই উত্তেজনার মাঝেই মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জেরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের সংঘাতের পথে হাঁটছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ জানিয়েছেন, আগামী দিনে পাকিস্তানের জাতীয় আইনসভায় এই পরিস্থিতির আরও বিশদ আলোচনা হবে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের অবহিত রাখা হবে।

‘ব্রহ্মস’ নয়, কেন ‘হাতুড়ি’র ঘা? অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ ভারত বেছে নিল স্ক্যাল্প ও হ্যামার, কারণ জানেন?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *