পাকিস্তানের পাশে তুরস্ক! করাচিতে ‘হারকিউলিস’!
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের মেঘ ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। এর মাঝেই এক বিস্ময়কর ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে করাচি। গত ২৮ এপ্রিল, পাকিস্তানের এই বন্দর শহরের বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের একটি সি-১৩০ই হারকিউলিস মালবাহী বিমানের অবতরণ ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ওই বিমানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে আঙ্কারা। যদিও ইসলামাবাদ এ নিয়ে চুপ, তবু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুসলিম দেশগুলির সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এবারের পরিস্থিতিতে তারা হাত মেলাচ্ছে তুরস্কের সঙ্গে, যার সঙ্গে ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক সখ্যতা রয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এরদোয়ান সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর করে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থনও দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে তুরস্কের এমন পদক্ষেপকে যুদ্ধকালীন জোট গঠনের সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে করাচিতে সি-১৩০ই বিমান অবতরণের ঘটনা একক নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ছ’টি হারকিউলিস বিমান করাচিতে অবতরণ করেছে এবং সেগুলি দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেছে। সূত্রের দাবি, এগুলি আরব সাগরের উপর দিয়ে আনা হয়। এতেই উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লিতে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সুশান্ত সারিন বলেছেন, “আমরা শত্রুদের পুরস্কার দিই আর বন্ধুদের অবহেলা করি। তুরস্ককে বন্ধু ভাবা মোদী সরকারের এক বড় ভুল।” তিনি মনে করেন, ভারত তুরস্ক থেকে ড্রোন কেনার ইচ্ছা দেখালেও আঙ্কারা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘কান’ নামের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে তুরস্ক, যার ব্যবহার পাবে পাকিস্তান বায়ুসেনাও।
বস্তুত, গত বছর ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। বিপুল পরিমাণ ত্রাণ, সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ পাঠিয়েছিল নয়াদিল্লি। অথচ সেই ‘ঋণ’ শোধ না করে তুরস্ক এখন পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভারত-তুরস্ক সম্পর্ক নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে কূটনৈতিক মহলে।
তবে শুধু তুরস্ক নয়, আজারবাইজানও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। কারণ, আর্মেনিয়ার সঙ্গে চলমান বিরোধে তারা ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কিনেছে, যার প্রতিশোধ হিসেবেই আজারবাইজান পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো আরব দেশগুলি এখনো নিরপেক্ষ থেকেছে, কারণ তাদের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্ক অবশ্য দাবি করেছে, করাচিতে নামা বিমানটিতে কেবল জ্বালানি ভরার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে এই ব্যাখায় সন্তুষ্ট নয় কেউ। এখন দেখার, নয়াদিল্লি কীভাবে কূটনৈতিকভাবে জবাব দেয় আঙ্কারাকে। কারণ, আঘাত এখন শুধু সীমান্তে নয়, কূটনীতি ও বিশ্বাসেও।
চোট উপেক্ষা করে সোনা! পুণেতে ঋতু ও প্রতিষ্ঠার জিমন্যাস্টিকে স্বর্ণোজ্জ্বল লড়াই