পাকিস্তানের অলিগলিতে রণবীর সিংহ!
রণবীর সিংহের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম টিজার মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন— পাকিস্তানের পরিচিত গলিপথ, রাস্তা দেখা যাচ্ছে ছবিতে, অথচ বাস্তবে কি রণবীর পাকিস্তানে গিয়েছিলেন? উত্তর হলো, না। তবে এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে বেশ রোমাঞ্চকর গল্প। শুটিংয়ের সময় গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও কাজ থামাননি রণবীর, আর এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে চিত্রনির্মাণের এক অন্যরকম অধ্যবসায়।
সম্প্রতি ছবির শিল্প নির্দেশক সাইনি জোহরভ জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর’ ছবির জন্য পাকিস্তানের মতো দেখতে একটি সেট তৈরি করতে হয়েছিল। কারণ ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান সম্পর্কের কারণে আসল পাকিস্তানে গিয়ে শুটিং করা সম্ভব ছিল না। পরিচালক আদিত্য ধর ঠিক করেছিলেন, নকল হলেও সেট দেখতে হবে একদম আসল পাকিস্তানের মতো। কোনও রকম ফাঁকি নয়।
সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ শুরু করেন সাইনি। ইউটিউবে ঘাঁটা, পুরনো পত্রিকা খোঁজা— সব কিছু মিলিয়ে পাকিস্তানের রাস্তাঘাট, গলিপথের খুঁটিনাটি ধরার চেষ্টা চলে। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল মুম্বইতে সেট বানানোর, কিন্তু বর্ষাকালের কারণে শুটিংয়ে বাধা পড়তে পারে ভেবে পরিকল্পনায় বদল আসে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইনির পরামর্শেই ঠিক হয়, থাইল্যান্ডে গিয়ে বিশাল সেট তৈরি করা হবে। প্রায় ৬ একর জমির উপর তৈরি হয় সেই ‘পাকিস্তান’। ১৫ জন সহকর্মীর সঙ্গে দিনে ১২ ঘণ্টা ধরে লাগাতার খেটে সাইনির দল এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। ছবির প্রথম ঝলক দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেট আসলে থাইল্যান্ডে।
এই সেটেই শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রণবীর সিংহ। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, তিনি এক মুহূর্তের জন্যও শুটিং থামাননি। পরিচালক আদিত্য ধার রণবীরের পাশে ছিলেন সব সময়, যার ফলে অভিনেতাও নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন ছবির জন্য। পুরো ছবির শুটিং চলে টানা ৬০ দিন ধরে।
চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এত বড় বাজেটের সিনেমায় পাকিস্তানের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা এবং তার জন্য আন্তর্জাতিক লোকেশন বাছাই, সেট তৈরির পরিকল্পনা, শিল্প নির্দেশকের নিষ্ঠা— সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ শুধু একটি সিনেমা নয়, হয়ে উঠেছে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পেশাদারিত্বের উদাহরণ।
রণবীরের সাহস ও শিল্প নির্দেশক সাইনি জোহরভের নিষ্ঠা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এমন এক ছবি, যা মুক্তির আগেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা, বড় পর্দায় সেই ‘পাকিস্তান’ দেখতে পাওয়া এবং রণবীরের নতুন রূপে চমকে ওঠা।
বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?