ক্ষতিপূরণে অসন্তোষ বাড়ছে উত্তরকাশীর ধরালীতে!
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে হড়পা বানের জেরে গৃহহীন শতাধিক মানুষ এখন আক্ষরিক অর্থেই ছাদের নিচে নেই। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামীর ঘোষণায় আশার আলো দেখলেও, বাস্তবে পাওয়া চেক মাত্র পাঁচ হাজার টাকার। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ধরালী এবং হর্ষিল গ্রামের বাসিন্দারা।
গত ৫ অগস্ট রাতে উত্তরকাশীর হর্ষিল উপত্যকায় হঠাৎ নেমে আসে প্রবল হড়পা বান। বিশেষ করে ধরালী ও হর্ষিল গ্রাম ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে। নদীর জল হুহু করে গ্রামে ঢুকে বহু বাড়িঘর, ফসল, গবাদি পশু—সব কিছু ধ্বংস করে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু ধরালীতেই ৩৫টি পরিবার সব কিছু হারিয়েছে।
সেই অবস্থায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন তাঁদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একই অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয় মৃতদের পরিবারকেও।
কিন্তু বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ধরানো হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকার চেক। এমন ‘সামান্য’ ক্ষতিপূরণ পেয়ে হতবাক ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অনেকেই সেই চেক নিতে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘এই টাকায় আমরা কী করব? কাপড় কিনব, না চাল-ডাল, না একটা ত্রিপল?’’
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকার মূলত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দেখাতে চাইছে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ দেওয়া না লাগে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও জানানো হয়েছে, এটি শুধু ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা’ হিসাবে দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরকাশীর জেলাশাসক প্রশান্ত আর্য জানিয়েছেন, “পুরো ক্ষতির তালিকা তৈরি হচ্ছে। একবার তা সম্পূর্ণ হলেই চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আপাতত অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।”
ক্ষতিপূরণের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।
তবে এইসব আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না গ্রামের মানুষজন। কারণ যাঁরা মাথার ওপর ছাদ হারিয়েছেন, যাঁদের সংসার ভেসে গিয়েছে, তাঁরা এখন জানেন না কোথায় যাবেন, কী খাবেন, কীভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন।
ধরালীর বাসিন্দা অনিতা দেবী বলেন, “আমার ঘরটা একেবারে ভেসে গিয়েছে। মাটিও নেই, কাঠও নেই, জামাকাপড়ও নেই। পাঁচ হাজার টাকায় কি ঘর বানানো যায়?”
ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?