পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের: ‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ বলে তোপ দিল্লির

পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের! পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট পেশ হতেই কূটনৈতিক আক্রমণ আরও ধারালো করল ভারত। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানকে…

December 16, 2025
1 min read

পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের!

পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট পেশ হতেই কূটনৈতিক আক্রমণ আরও ধারালো করল ভারত। সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাল দিল্লি। ভারতের স্পষ্ট বার্তা— পাকিস্তান শুধু সন্ত্রাসকে আশ্রয়ই দেয় না, পরিকল্পিত ভাবে ভারত ও ভারতীয়দের ক্ষতি করতে চায়। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের আদালতে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে পাকিস্তানি জঙ্গি সাজিদ সইফুল্লাকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর প্রধান এই সইফুল্লাই ছিল গোটা হামলার নেপথ্য কারিগর। চার্জশিটে পাক মদতের বিষয়টি জোরালো ভাবে উল্লেখ করায় আন্তর্জাতিক মহলেও চাপ বেড়েছে ইসলামাবাদের উপর।

এই প্রেক্ষাপটেই নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের এক আলোচনাসভায় পাকিস্তানকে নিশানা করেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতনেনি। ‘শান্তিপ্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদান’ সংক্রান্ত আলোচনার মাঝে পাকিস্তানি প্রতিনিধি আবারও জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে পর্বতনেনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পাকিস্তানের এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি ‘অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।

ভারতের অভিযোগ, রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তান নিয়মিত ভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকানি দেয় এবং সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় দূত জানান, এই হামলা ফের প্রমাণ করে যে পাকিস্তান ধারাবাহিক ভাবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। শুধু কথার স্তরে নয়, প্রমাণ-সহ এই অভিযোগ পেশ করেছে ভারত।

পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের অন্যতম কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিল সিন্ধু জলচুক্তি সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা। সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পর্বতনেনি বলেন, ৬৫ বছর আগে ভারত সদিচ্ছা দেখিয়ে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেই বিশ্বাস বারবার ভেঙেছে। তিন বার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ, অগণিত সীমান্ত সংঘর্ষ এবং হাজার হাজার জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা— সব কিছুর নেপথ্যেই রয়েছে ইসলামাবাদের ভূমিকা।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, সিন্ধু জলচুক্তি কোনও একতরফা সুবিধা নয়, বরং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন একটি দেশ সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করে তোলে, তখন সেই আস্থা বজায় রাখা সম্ভব নয়। পহেলগাঁওয়ের মতো ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে ভারতের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও তথ্যভিত্তিক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এনআইএ-র চার্জশিট, আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগসূত্র এবং নির্দিষ্ট নাম তুলে ধরে পাকিস্তানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে ভারতের যুক্তি আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার চার্জশিট শুধু একটি আইনি নথি নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিয়ে দিল্লি বুঝিয়ে দিল— নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস নয়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *