পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ছ’দিন আগেও ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান, পাকিস্তানি গুপ্তচর-যোগে ধৃত!

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ছ’দিন আগেও ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান! পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর এক জওয়ান। এই ঘটনায় গোটা নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত…

May 27, 2025
1 min read

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ছ’দিন আগেও ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান!

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর এক জওয়ান। এই ঘটনায় গোটা নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত ওই জওয়ান ছিলেন পহেলগাঁওয়ের ১১৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নে নিযুক্ত, যেখান থেকে তাঁকে বদলি করা হয় ঠিক জঙ্গি হামলার ছ’দিন আগে।

গ্রেফতার হওয়া জওয়ানের নাম মতিরাম জাট। তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এবং ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে গত ১৭ এপ্রিল পহেলগাঁও থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। আর ঠিক তার কয়েক দিন পর, ২২ এপ্রিল ভয়াবহ জঙ্গিহানায় কেঁপে ওঠে পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা। সেই হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন পর্যটক।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকেই মতিরাম ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন। বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা পাচ্ছিলেন। রাজধানী দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের জন্য এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)-র হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে পহেলগাঁও হামলার তদন্তও করছে এনআইএ।

আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘‘এ ধরনের কাজ শুধু দেশের নিরাপত্তা নয়, বিদেশি পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের জীবনকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। একজন আধাসেনা জওয়ানের কাছ থেকে এমন বিশ্বাসঘাতকতা দেশের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিষয়টির গভীরে গিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’’

এই ঘটনায় মতিরামকে ইতিমধ্যেই বাহিনী থেকে বরখাস্ত করেছে সিআরপিএফ। তাঁর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং কী ধরনের তথ্য পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ।

পহেলগাঁও হামলার পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ একের পর এক পাকিস্তান-যোগের সন্ধান মিলছে। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন নেটমাধ্যমে জনপ্রিয় জ্যোতি মলহোত্রা নামক এক প্রভাবশালীও, যিনি বর্তমানে তদন্তকারীদের নজরে।

মতিরামের গ্রেফতারি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে পড়েছে এক ভয়ঙ্কর জাল। একদিকে বাহিনীর প্রতি দেশের মানুষের ভরসা, অন্যদিকে সেখান থেকেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে অমূল্য তথ্য—এই পরিস্থিতি আমাদের আরও বেশি সচেতন এবং সতর্ক হতে বাধ্য করছে।

এই ঘটনার পরে এখন গোটা দেশ চায়, অপরাধীদের কড়া শাস্তি হোক এবং ভবিষ্যতে এমন বিশ্বাসঘাতকতা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এশিয়ান কাপে খেলাই এখন লক্ষ্য, সতীর্থদের বার্তা দিলেন মরিয়া সুনীল ছেত্রী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *