মাঠে চাপে পাকিস্তান সেনা!
আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে ব্যস্ত পাকিস্তান। কখনও আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার দাবি, কখনও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা— সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের ভিতরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখাচ্ছে।
গত ১৫ দিনের মধ্যে পাকিস্তানে অন্তত পাঁচটি বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলাগুলিতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সেনা, আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বালোচিস্তান এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক এলাকা হয়ে উঠেছে।
পাক সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক স্তরে যতই সক্রিয় থাকুন না কেন, দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী যে হিমশিম খাচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো সংগঠনগুলি আগের চেয়ে আরও সংগঠিত ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একাধিক আত্মঘাতী হামলা, সেনা চৌকিতে বিস্ফোরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ১৫ মে-র হামলায় বিস্ফোরকবোঝাই ট্রাক নিয়ে জঙ্গিরা নিরাপত্তা চৌকিতে ঢুকে পড়ে। নিহত হন অন্তত ন’জন আধাসামরিক সেনা। তার আগে ১২ মে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ন’জনের। আবার বালোচিস্তানে সংঘর্ষে প্রাণ হারান সেনা ও জঙ্গি— দুই পক্ষেরই সদস্য।
বালোচিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর কথায়, বিশাল ভৌগোলিক বিস্তারের কারণে গোটা অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখা সেনাবাহিনীর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্য দিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সক্রিয়তা কিন্তু কমেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদের ভূমিকার উল্লেখ করেছেন তিনি। এই কূটনৈতিক স্বীকৃতিকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে পাকিস্তান।
তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, বাইরের দুনিয়ায় গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টায় পাকিস্তান নিজের ঘরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে যথেষ্ট নজর দিতে পারছে না। সীমান্তে অশান্তি, জঙ্গি সংগঠনের পুনরুত্থান এবং লাগাতার হামলা সেই ব্যর্থতাকেই সামনে এনে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়া এবং আফগান সীমান্ত ঘিরে বাড়তি সামরিক চাপের সুযোগ নিচ্ছে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলি। ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোর ভিতরেই তৈরি হচ্ছে এক বিপজ্জনক শূন্যতা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যতই কূটনৈতিক সাফল্যের প্রচার হোক, দেশের ভিতরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এখন ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা