পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই মোদীকে ফোন নেতানিয়াহুর!
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় ইজ়রায়েলের আক্রমণ এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ঘিরে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতেই এই কূটনৈতিক সংলাপ।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট বার্তা দেন— আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।
কী ঘটেছিল?
বৃহস্পতিবার রাতে ইজ়রায়েলি বিমানবাহিনী ‘অপারেশন রাইজ়িং লায়ন’ চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক কেন্দ্র। হামলায় ইরানের বহু শীর্ষ সামরিক কর্তা, রেভলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার এবং ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।
তেহরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং তার জবাবে ইজ়রায়েল তাদের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালায় তেল আভিভ। ভারতের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন নেতানিয়াহু।
নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লি। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
তবে ভারত এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানায়নি। বরং শান্তি এবং আলোচনার পথেই সমাধানের উপর জোর দিয়েছে।
মোদী–নেতানিয়াহু কথোপকথনের তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফোনালাপ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই তুলে ধরে। ভারত যেমন ইজ়রায়েলের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী, তেমনই ইরান ভারতের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই এই সংঘাত ভারতকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সাবধানী ভূমিকা নিতে বাধ্য করছে।
উপসংহার
যুদ্ধ, প্রতিশোধ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আবহে ভারত নিজের অবস্থানকে ‘শান্তিপ্রিয় মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। নেতানিয়াহুর ফোন ও মোদীর বার্তা শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতাবস্থার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পাকা আমের স্বাদে অন্য রূপ! রুটির সঙ্গে জমবে এই ঝটপট আমের তরকারি