পশ্চিমের আধিপত্য টলমল!
বিশ্ব রাজনীতির শক্তি ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিল, কিন্তু বর্তমানে রাশিয়া, চীন, ইরান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো তাদের শক্তি বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ৯০-এর দশকের পর থেকে আমেরিকা বিশ্ব নেতৃত্বে থাকলেও বর্তমানে সেই আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
উপনিবেশ বিস্তার ও পশ্চিমা শক্তির উত্থান
১৬ ও ১৭ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে। প্রথমে পর্তুগাল ও স্পেন, পরে ব্রিটেন ও ফ্রান্স বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। উপনিবেশবাদী শাসনের কারণে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার দেশগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি। ১৯১৮ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ইউরোপের রাজনীতিতে প্রবেশ করে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা নেতৃত্ব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতির চিত্র বদলে যায়। যুদ্ধ শেষে উপনিবেশবাদ দুর্বল হতে থাকে এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো শক্তিগুলোর প্রভাব কমতে থাকে। এ সময় আমেরিকার নেতৃত্বে জাতিসংঘ গঠিত হয়। পাশাপাশি, আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়, যা বিশ্ব রাজনীতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে।
ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তি ও আমেরিকার একক আধিপত্য
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকা একক বিশ্বশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ৯০-এর দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার ঘটিয়ে আমেরিকা তার নেতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও পশ্চিমা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার কারণে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান ঘটে। বিশেষ করে, ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
২১ শতকে আমেরিকার চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার কিছু ভুল সিদ্ধান্ত তাদের বিশ্বনেতৃত্ব দুর্বল করেছে। ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপ, আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান আমেরিকার অবস্থানকে নড়বড়ে করেছে। ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণের ফলে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে গড়িয়েছে।
রাশিয়া ও চীনের উত্থান
বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া ও চীন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে রাশিয়া তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, আর চীন অর্থনৈতিকভাবে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পের মাধ্যমে তারা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন জোট ও পরিবর্তনশীল বিশ্ব
বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন জোট গঠিত হচ্ছে। ভারতের নেতৃত্বে ‘কোয়াড’ এবং ইসরায়েল, আমেরিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত ‘আইটুইউটু’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতা এককেন্দ্রিক না থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব নেতৃত্বের ভারসাম্য আরও বদলাবে। ভবিষ্যতে কোন দেশ বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে বসবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও