পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণে এগোচ্ছে কাজ
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ার উদ্যোগে এবার সরাসরি যুক্ত হল আমেরিকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভে ১৩ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। মঙ্গলবার কলকাতায় নিযুক্ত আমেরিকার কনসাল জেনারেল ক্যাথি গিলেস দিয়াজ়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন, যা রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে মূলত কাজ করবে আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে একটি ‘ফ্যাব-লেস’ কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করেছে যেখানে হবে ডিজাইন, টেস্টিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। তবে ভবিষ্যতে এই কেন্দ্রের কাজের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম ধাপে যেটুকু জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, সংস্থার অনুরোধে সেই পরিসর আরও ১৯ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
এখানে শুধু প্রযুক্তি নয়, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাও যুক্ত হতে চলেছে এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি এই হাই-টেক শিল্পে প্রবেশের সুযোগ পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “এই সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প রাজ্যে একটি শক্তিশালী টেকনোলজিক্যাল ইকোসিস্টেম তৈরি করবে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের তরুণদের জন্য এটি এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে।”
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৈঠকে এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতাতেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তা বাস্তবায়নের পথে। রাজ্যে বড় শিল্প নিয়ে যতবার প্রশ্ন উঠেছে, ততবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরিকাঠামো এবং শিল্পবান্ধব নীতির ওপর জোর দিয়েছে। এই প্রকল্প সেই চেষ্টারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গ এবার আর শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য নয়—তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। সরকারের সক্রিয় ভূমিকা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক পরিকাঠামো—সব মিলিয়ে এটি রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পালাবদলের সূচক হতে চলেছে।
বাড়ির আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন বদলের পথে করিনা: চুয়াল্লিশে পা দিয়েই নিলেন এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত