পরমাণু চুক্তির আগে কড়া বার্তা তেহরানের!
ইরানের সঙ্গে নতুন করে পরমাণু সমঝোতার পথে এগোতে চাইছে আমেরিকা। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার আগেই স্পষ্ট বার্তা দিল তেহরান— একতরফা ছাড়ে কোনও চুক্তি সম্ভব নয়, আমেরিকাকেও সমানভাবে কিছু ছাড় দিতে হবে। ফলে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
আলোচনার আগে কঠোর অবস্থান
ইরানের এক শীর্ষ কূটনীতিক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তি সফল করতে হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর কথায়, “শুধু নিষেধাজ্ঞা বা চাপ নয়— এমন ক্ষেত্র খুলতে হবে যেখানে ইরান বাস্তব লাভ পাবে।”
এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তেহরান চায়— সমঝোতার অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক সুযোগ, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।
কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় চাইছে ইরান?
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, আলোচনায় কয়েকটি বড় বিষয় উঠে আসতে পারে—
- তেল ও গ্যাস খাতে যৌথ স্বার্থ
- খনি ও প্রাকৃতিক সম্পদে বিনিয়োগ
- বিমান কেনাবেচার অনুমতি
- নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে অর্থনৈতিক লেনদেনের সুযোগ
তেহরানের বক্তব্য— এগুলো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি টেকসই হবে না।
বৈঠক কোথায়, কারা থাকবেন?
সম্প্রতি ওমানে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠক চলতি সপ্তাহেই হতে পারে সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায়। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
পুরনো চুক্তির ছায়া
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, যেখানে পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ইরান কিছু ছাড় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপায়।
ইরানের দাবি, সেই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল, তাই এবার তারা আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার সম্ভাবনা
মার্কিন প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রয়োজনে সরাসরি আলোচনায় বসতেও রাজি ওয়াশিংটন। এমনকি ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও প্রস্তুত— এমন দাবি করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন— এই চুক্তি সহজ হবে না।
সামরিক চাপও বাড়াচ্ছে আমেরিকা
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি আমেরিকা সামরিক চাপ বজায় রেখেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইতিমধ্যেই দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে— যা তেহরানের উপর পরোক্ষ চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সামনে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা শুধু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ নয়— বরং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন নজর দ্বিতীয় দফার বৈঠকে— সেখানে সমঝোতার রাস্তা খুলবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে, সেটাই দেখার।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই