পথকুকুরদের অপসারণ?
দিল্লির রাস্তাগুলি থেকে পথকুকুরদের তুলে নিয়ে আশ্রয়স্থলে পাঠানোর সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় ঘিরে দেশজুড়ে ছড়িয়েছে বিতর্কের ঝড়। কোথাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, কোথাও আবার ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এ বার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেতা এবং পশুপ্রেমী তথাগত মুখোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানালেন, এই রায়ের মধ্যে তিনি মানবিকতার বিরুদ্ধে এক নির্মম আঘাত দেখছেন— এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করছেন।
তথাগত বলছেন, “এর আগে সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল, পথকুকুরদের রাস্তা থেকে সরানো যাবে না। তাদের খাওয়ানোকে বাধা দেওয়া যাবে না। যদি কেউ বাধা দেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আজকের রায় সেই আইনকেই অগ্রাহ্য করেছে।”
তাঁর দাবি, নতুন রায় শুধুমাত্র দিল্লির জন্য হলেও এর প্রভাব দেশের অন্য রাজ্যেও পড়তে পারে। “এটা একটা পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ,” বলছেন তথাগত। “আজ দিল্লিতে কুকুর সরানো হচ্ছে, কাল হয়তো আমাদের রাজ্যেও হবে। আমরা যারা কুকুরদের নিয়ে কাজ করি, তারা তখন কোথায় দাঁড়াব?”
রায়ের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ‘‘দেশে লক্ষ লক্ষ পথকুকুর রয়েছে। আজ অবধি তাদের টিকাকরণ বা নির্বীজকরণ সম্পূর্ণ হয়নি। এতগুলো কুকুরকে হঠাৎ করে কোথায় রাখা হবে? এতদিন যেখানে একটা স্থায়ী আশ্রয় তৈরি হয়নি, সেখানে রাতারাতি কি করে সম্ভব?’’
তথাগত মনে করেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত আসলে শহরগুলোকে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে ‘পরিষ্কার’ দেখানোর চেষ্টা। কুকুরদের সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করব, কিন্তু মানুষই যেখানে যেখানে খুশি থুতু ফেলছে, প্রস্রাব করছে— সেদিকে নজর নেই। এটা তো দ্বিচারিতা।’’
এই সিদ্ধান্তকে তিনি এক ভয় ধরানো কৌশল হিসেবেও দেখছেন। “সুয়ো মোটো মামলা করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রায় দিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। পরে যদি কেউ প্রতিবাদ করেন, তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে। মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার ফন্দি, এর চেয়ে আর স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী হতে পারে?”
এখানেই থামেননি তথাগত। তিনি আরও বলেন, “আজ কুকুরদের সরানো হচ্ছে। কাল হয়তো গরু, বিড়াল বা অন্য প্রাণীদের নিয়ে এমনই সিদ্ধান্ত আসবে। পরে একদিন হয়তো বাড়ির পোষ্যদেরও জোর করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আইন হবে। যাদের বাড়িতে প্রাণী নেই, তাদের তো কিছু এসে যাবে না!”
সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়ো তথ্য নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। ‘‘কারও কারও মতে, দশ লক্ষ ইমেল করলেই নাকি রায় স্থগিত হবে। এ রকম বিভ্রান্তিকর প্রচারে কাজ হবে না। যা করার, রাস্তায় নেমেই করতে হবে।’’
সব শেষে তথাগত বলেন, “এই রায় শুধু পথকুকুর নয়, মানুষের বিবেকের উপরও আঘাত। প্রকৃতি কখনও অন্যায়ের প্রতিশোধ নেয় না, সে ক্ষমা করে না— সময় হলে উত্তর দিয়ে দেয়। এই নিষ্ঠুরতার প্রতিফলও একদিন আসবেই।”
তাঁর বার্তা একটাই— প্রতিবাদ করুন, আওয়াজ তুলুন, কারণ এ লড়াই কেবল পশুদের জন্য নয়, মানবিকতার পক্ষেও।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?